আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ভিপি সাদিক কায়েমের বিতর্কিত পোস্ট!

সিলেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া

আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে ভিপি সাদিক কায়েমের বিতর্কিত পোস্ট!

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৭/০৯/২০২৬ ১৫:১৪:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘জাতীয় অধ্যাপক’ মনোনয়নের কমিটিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের এক বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের জনপ্রিয় নেতা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্যে সিলেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।

যেভাবে বিতর্কের সূত্রপাত

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি প্রজ্ঞাপনের ছবি যুক্ত করে পোস্ট দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। পোস্টটিতে তিনি লেখেন, “এইট পাশ মন্ত্রীকে জাতীয় অধ্যাপক মনোনয়নের দায়িত্ব দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী হলফনামা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী আরিফুল হক চৌধুরী ‘স্বশিক্ষিত’ তথা অষ্টম শ্রেণী উত্তীর্ণ। বিশিষ্ট পণ্ডিত ও চিন্তাবিদদের জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে মনোনীত করার প্রক্রিয়ায় এমন একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক অনুযায়ী, ‘জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ নীতিমালা-২০২৩’ অনুসরণে গঠিত কমিটির সদস্য হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

এদিকে সাদিক কায়েমের এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সিলেটের গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে এমন বক্তব্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দৈনিক সুরমার ডাক’ নামক পেইজ থেকে সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়—

“একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না সাদিক কায়েম? তিনি আমাদের সিলেটের গর্ব। পিতার সমতুল্য একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এভাবে বলা ঠিক হয়নি। আপনার দাওয়াত রইলো—সিলেট এসে একবার শাহজালাল ও শাহপরান (র.) মাজার, সাদা পাথর, জাফলং ঘুরে যান। আপনাকে যথেষ্ট সমাদর করবে সিলেটের মন্ত্রী আরিফ ভাইয়ের লোকেরা।”

জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্বের মূল্যায়নে সার্টিফিকেট নয়, জনগণের ভালোবাসা ও কাজই মুখ্য—এমন মন্তব্য তুলে ধরে S.I. Sumon নামের একজন নেটিজেন লিখেছেন—

“জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে! রোকেয়া, নজরুলও নন-মেট্রিক ছিলেন, তাঁদের লেখা পড়ে এখন ইউনিভার্সিটির পোলাপাইন। সার্টিফিকেট নয়, স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই সুশিক্ষিত—এটা কমন সেন্স।”

আরিফুল হক চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সিলেটের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে Delwar Husain Dildar লিখেছেন—“লেখাপড়া করেও অনেকে মানুষ হয় না, উনি পড়ালেখা না করলেও খাঁটি মানুষ হয়েছেন। উনার ইতিহাস সিলেটের মানুষের কাছ থেকে শুনে নিয়েন।”

সিলেটের মানুষের ভাবাবেগ ও সমর্থনের চিত্র ফুটিয়ে তুলে SA Shamim নামের আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন— “আমরা সিলেটের মানুষ উনাকে ভালোবেসেই তো এই জায়গায় নিয়ে আসছি, তাহলে আপনাদের সমস্যা কোথায়?”

জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচনের মতো উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন একপক্ষ, অন্যদিকে সিলেটের রাজনীতি ও উন্নয়ন ধারায় আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন সাধারণ নাগরিকেরা। ফলে বিষয়টি এখন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক ঐতিহ্য, আবেগ এবং রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে।

ডিডি/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad