যুবলীগ নেতাকে বিএনপির কর্মী বলে ভাইয়ের প্রত্যয়নপত্র
হবিগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী মামলায় কারাগারে আটক যুবলীগ নেতা মো. আব্দুল মোতালিব চৌধুরী মাহফুজকে জামিনে মুক্ত করতে বিএনপির কর্মী বলে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপি। আর এ কমিটির সাধারন সম্পাদক তার আপন বড় ভাই মো. আব্দুল আলীম চৌধুরী। স্থানীয় প্রশাসনসহ আদালতেও জামিনের জন্য এ প্রত্যয়নপত্রটি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে কোন কিছু জানেন না কমিটির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন মেম্বার।
জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল আব্দুল মোতালিব চৌধুরী মাহফুজকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা থেকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে তাকে ইমরান মিয়া হয়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সে মামলার ২২ নাম্বার আসামী। বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে হবিগঞ্জ শহরের ইনাতাবাদ এলাকায় বসবাস করে।
এদিকে, তাকে জামিনে মুক্ত করতে বিএনপিকর্মীর স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলীম চৌধুরী। মাহফুজকে জামিন করানোর জন্য গত জুন মাসের ১৩ তারিখ কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির একটি প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর এবং সিলযুক্ত এই প্রত্যয়নপত্রটি প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রত্যয়নে বলা হয়- “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাইতেছে যে, মোঃ আব্দুল মোতালিব চৌধুরী, পিতা-মৃত আব্দুল মুছাব্বির চৌধুরী, সাং- চান্দপুর, ডাকঘর- কাগাপাশা, উপজেলা-বানিয়াচং, জেলা-হবিগঞ্জ, সে বানিয়াচং উপজেলার ৬নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি কমিটির নির্বাহী সদস্য। তাহার স্বভাব চরিত্র ভাল। আমার জানামতে সে রাষ্ট্র বিরোধী কোন কার্য্যকলাপে জড়িত নহে। আমি তাহার সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।”
এ ব্যাপারে কাগাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমি এমন কোন প্রত্যয়নপত্রে আমি স্বাক্ষর করেছি বলে মনে করতে পারছি না।
পরে প্রত্যয়নপত্রের সত্যতা জানার জন্য সভাপতিকে কপি পাঠায়ে তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: