কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের লকডাউন কর্মসূচি
সুনামগঞ্জে ১৭৫ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা
জেলার দুই থানায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের ১৭৫ জন নেতা কর্মীকে আসামী করে নাশকতার মামলা হয়েছে। এই দুইটি মামলায় চারজন-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই দুইদিনে দুই মামলা হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা মামলার বাদী সাব ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান এবং শান্তিগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার বাদী সাব ইন্সপেক্টর সেলিম।
সুনামগঞ্জ সদর থানার মামলায় সাবেক পৌর মেয়র নাদের বখ্ত, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখ্ত পলিনসহ ৩৫ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। অন্যরা হলেন,বখতিয়ারুল হক মাহি, নিহার রঞ্জন,মিনা দাশ, ফুয়াদ আহম্মেদ,শাহরিয়ার নুর নিহান,মেহেদী হাসান সাকিব, ফাহিম আহমেদ,মাহমুদুল হাসান পলাশ,আলী হোসেন,শিহাব নুর, মো.শাহারুল আলম, রিমন, বিশাল, তারেক, তাফসির, পলাশ, ইফতি বখ্ত, আশরাফুল ইসলাম রাহাত, শাহরিয়ার আহমদ সাগর, আসেফ বখ্ত রাদ,আশিকুর রহমান রিপন, হারুনুর রশিদ হারুন, মাসাকাওয়াত জামান ইনতি, রাহাত আহমেদ,সালাউদ্দিন আহমেদ শিহাব, ইমন, আলী হোসেন, রিংকু চৌধুরী,সানোয়ার,আবুল হাসনাত মো কাওছার, বাবু, আফজাল ও রুহেল।
অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ থানায় পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এমএ কাশেম চৌধুরী,আতাউল হক সানী, রিফাত উদ্দিন ও হাবিব আহমদসহ ১৫ জনের নামোল্লেখ করে ৪৫ জনকে আসামী করে নাশকতার মামলা হয়েছে। বুধবার দিনে গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগ সমর্থক। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা একমাত্র নারী ছিলেন পুরান লক্ষণশ্রীর মিনা দাশ।মিছিল দিয়ে ঢাকা পালানোর সময় বাস কাউন্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাকি দুইজন হলেন- নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ারুল হক মাহি (২৩), জেলা শাখার সহ সভাপতি নিহার রঞ্জন (৪০)। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। অন্যদিকে বুধবার রাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্ব পাগলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ির টায়ার ও মশালে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী।
ধারণা করা হয়, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করে। তাদের সাথে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন ছিলেন। ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির লোকজন তাদের ধাওয়া দেয়। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় আন্দোলন কারীরা। এ ঘটনায় পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাইম জানান,ওই দিন পাগলা বাজারে আমাদের দলীয় কর্মসূচি ছিলো। কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়েছে। দামোধরতপী-মাহমুদপুরে আমাদের কর্মী-মিয়া সাইফুল,ইজাদসহ আরো অনেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। তারা মিছিলকারীর অবস্থান টের পেয়ে আমাদের অবগত করেন। আমরা দুই দিক থেকে ধাওয়া দেই। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে সিএনজি যোগে নাশকতাকারীরা পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের ধারণা এরা সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলো। আমাদের এলাকার কারো যোগসাজশ অবশ্যই আছে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। তারা জ্বালাও-পোড়াও করলে কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা তাদের প্রতিহত করবো। কেন্দ্রিয় নির্দেশ থাকলে আমরা রাজপথ পাহারা দিতেও প্রস্তুত আছি।
এদিকে, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ শহরতলির ইকবাল নগর, লালপুর ও আব্দুজ জহুর সেতুর শেষাংশে মিছিল করতে চেয়েছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। পরে দলের নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে তিনটি স্থানেই বিএনপি নেতা কর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় এরা পালিয়ে যায়।
আগামী ১৭ নভেম্বর সোমবার মানবতা বিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে পুলিশের সতর্ক অবস্থান রয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জাকির হোসেন বলেন,নাশকতার মামলার সকল আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: