শিক্ষক সংকটে স্থবির সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ : পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা
Led Bottom Ad

তিন বিভাগে শিক্ষকই নেই

শিক্ষক সংকটে স্থবির সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ : পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

প্রথম ডেস্ক

১০/১২/২০২৫ ১২:৩২:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক একাধিক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছেন ২৮০ জন শিক্ষার্থী। প্র্যাকটিক্যাল, থিওরি এবং ক্লিনিক্যাল—সব ধরনের ক্লাসই ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে বড় ধরনের সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক এবং লেকচারার মিলিয়ে মোট ৯১টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৭টি।

সহযোগী অধ্যাপক: ২৫টির মধ্যে ১৯টি শূন্য, সহকারী অধ্যাপক: ২৬টির মধ্যে ১৯টি শূন্য, লেকচারার: ২৮টির মধ্যে ৯টি শূন্য, ডার্মাটোলজি, অর্থোপেডিক্স ও রেডিওলজি—এই তিন বিভাগে একজন শিক্ষকও নেই। ফলে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে পাঠদান থেকে বঞ্চিত।

অবকাঠামোর কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুরোপুরি চালু হয়নি। হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুমোদনের নথি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। জনবল অনুমোদন ছাড়া আউটডোরিং কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস পিছিয়ে পড়ছে।

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ও ওয়ার্ড ক্লাস সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সাময়িকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ বলেন, “ওয়ার্ড ও ক্লিনিক্যাল ক্লাসের সমস্যা আন্দোলনের পর সাময়িক সমাধান হলেও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটে এখনো পিছিয়ে আছি। আউটডোরিং কার্যক্রম চালু না হলে পূর্ণাঙ্গ পাঠদান সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আমরা অসুবিধায় পড়ব।”

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনটি বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকই নেই। আমরা ২ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে জনবল নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। নিয়মিতভাবেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করছি।”

জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ না হলে এই ব্যাচগুলোর শিক্ষাজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কবে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো স্পষ্ট সময়সীমা জানায়নি।

হাওর অঞ্চলের একমাত্র সরকারি মেডিকেল কলেজটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad