শাল্লায় মহাসড়কে হাওররক্ষা বাঁধের ‘অপ্রয়োজনীয়’ পিআইসি জরিপ
Led Bottom Ad

সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ স্থানীয়দের

শাল্লায় মহাসড়কে হাওররক্ষা বাঁধের ‘অপ্রয়োজনীয়’ পিআইসি জরিপ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১১/১২/২০২৫ ১৯:১৮:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় পুনর্নির্মাণাধীন দিরাই–শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর হাওররক্ষা বাঁধের একটি প্রকল্পের জরিপ কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যেখানে মহাসড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, সেখানে হাওরের পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) প্রয়োজন নেই। তারা অভিযোগ করছেন, এমন প্রকল্পে সরকারের অর্থ অপচয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বোরো ফসলরক্ষায় হবিবপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর শাহ আরপিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাহাড়া ইউনিয়নের সুখলাইন গ্রাম পর্যন্ত বাঁধের ভাঙনরোধ ও মেরামতের জন্য ৯০ নম্বর পিআইসির জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ ওই অংশে বর্তমানে মহাসড়ক নির্মাণের মাটি, বালু ও পাথর ফেলে সাববেজের কাজ চলছে। ফলে মহাসড়কের ওপর পাউবোর এই প্রকল্প কতটা প্রয়োজনীয়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।


তাদের অভিযোগ, নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাদ দিয়ে তুলনামূলক উচ্চ জায়গায় জরিপ করা হয়েছে। আনন্দপুর বাজারসংলগ্ন সেচ প্রকল্প ও কবরস্থানের অংশটি নিচু হলেও সেখানে কোনো জরিপ হয়নি। অন্যদিকে, বাহাড়ার নোয়াগাঁও গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর পাশে জরিপ করা হয়েছে—যে এলাকায় বর্ষায়ও পানি ওঠে না বলে দাবি স্থানীয়দের।


আনন্দপুর গ্রামের কালাই মিয়া তালুকদার বলেন, “বাজারের কবরস্থান–সংলগ্ন অংশটি গিরিধর মাঠের চেয়ে নিচু। সেখানে জরিপ না হওয়াটা বোধগম্য নয়।”


২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু রায় বলেন, “কবরস্থান থেকে মাঠের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত জায়গাটি নিচু। এ অংশ দিয়ে পানি ঢোকার ঝুঁকি থাকে। এখানে কাজ না করে মহাসড়কে প্রকল্প দেওয়া অযৌক্তিক।”


স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কে পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


বিষয়টি জানতে চাইলে পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) ওবাইদুল রহমান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আপনি যে স্থানের কথা বলেছেন, সেটি এখন মনে পড়ছে না। তবে প্রয়োজন হলে সংশোধন করা যেতে পারে।”


উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “বিষয়টি পাউবোর কর্মকর্তাকে জানাচ্ছি। প্রয়োজন হলে সংশোধন করা হবে।”


জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উপজেলার ছয়টি হাওরের বাঁধের জন্য ১১৬টি পিআইসির জরিপ চলছে। গত অর্থবছরে ৮০ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে ১১৭টি পিআইসি প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। নতুন বরাদ্দ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad