সুনামগঞ্জে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম জন্ম-মহোৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
সুনামগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরমপুরুষ শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম শুভ জন্ম-মহোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে। শহরের ঐতিহাসিক সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বালুর মাঠ) দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমবেত বিনতি প্রার্থনা, নাম জপ ও সদ্গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শ্রীশ্রী ঠাকুরের আদর্শে অনুপ্রাণিত কয়েক হাজার ভক্ত ও অনুরাগী এই উৎসবে যোগ দিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জুবিলী স্কুল মাঠে সমবেত হন।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে সৎসঙ্গ বিহার সুনামগঞ্জ ও ১৩৮তম জন্ম-মহোৎসব উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে একটি বিশালাকার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উৎসবস্থলে ফিরে আসে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল থেকে ভক্তিমূলক গানের সুরে মুখরিত থাকে পুরো প্রাঙ্গণ। উৎসব উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। শিশুদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা এবং কর্মীদের জন্য বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ধর্মসভা শেষে উপস্থিত হাজারো ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উৎসব চলাকালীন আয়োজক কমিটির সভাপতি শ্রী রঞ্জিত কুমার তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী দিবাকর দাস বলেন, "সুনামগঞ্জ জেলা সারা বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। এখানে যুগ যুগ ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে, তা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।"
তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শ্রীশ্রী ঠাকুরের অহিংসা ও যজন-যাজন-ইষ্টভৃতির এই আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে যাবে এবং সুনামগঞ্জের এই সম্প্রীতির মেলবন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
উৎসবে জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সৎসঙ্গের সেবকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আজ শুক্রবার গভীর রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: