শাল্লায় হাওর বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি, শঙ্কায় বোরো ফসল
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজে চরম ধীরগতি দেখা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল না থাকায় আগাম বন্যা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শাল্লায় ১২৬টি প্রকল্পের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রকল্পেই কাজ শুরু হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র কয়েকটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। অনেক প্রকল্পে এখনো পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
পাউবো শাল্লা শাখা কর্মকর্তা ওবায়দুল রহমান দাবি করেন, অন্তত ১০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। তবে বরাম হাওরের ৪০ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি শৈলেন দাস ও সদস্যসচিব লোকেশ দাস বলেন, ৪ জানুয়ারি তাঁদের প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বরাম হাওরের অন্য কোনো প্রকল্পে কাজ হয়নি।
ভান্ডাবিল হাওর উপ-প্রকল্পের ২৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি কালাবাসী দাস জানান, কাজের পরিধি বাড়িয়ে দেওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। এতে বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে শাল্লার ছয়টি হাওরে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২৯ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে ১২৬টি পিআইসি গঠন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
উপজেলা কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, খুব শিগগিরই সব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, কাজের এই ধীরগতি অব্যাহত থাকলে শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে করা নামকাওয়াস্তে বাঁধ আগাম বন্যার চাপ সামলাতে পারবে না, যা বোরো ফসলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: