শাল্লায় বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে তীব্র সংকট, কৃষক উদ্বিগ্ন
Led Bottom Ad

শাল্লায় বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে তীব্র সংকট, কৃষক উদ্বিগ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

০৭/০১/২০২৬ ১৫:৪৯:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বোরো ফসল রক্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধে কাজ শুরুর ২২ দিন পেরোতে গেলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে হাওরপাড়ের হাজার হাজার কৃষক চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। একদিকে কাজের মন্থর গতি, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ এলাকায় উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।


স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের পাশে জমি না থাকা ব্যক্তির কমিটিতে থাকার অধিকার নেই। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে ভূমিহীন ও অকৃষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরজমিনে দেখা যায়, ২৫ নং পিআইসির সভাপতি নিউটন দাস এবং সদস্য সচিব সজল চন্দ্র দাসের বাড়ি বাহাড়া ইউনিয়নে হলেও সংশ্লিষ্ট বাঁধের পাশে তাদের কোনো জমি নেই।


উপজেলার প্রথম উদ্বোধনী বাঁধের ২৭ নং পিআইসির সভাপতি কালাবাঁশী দাস জানান, “আমার বাঁধের কাজ ১০০% শেষ, কিন্তু এখন পর্যন্ত ওয়ার্কঅর্ডার পাইনি।” মাঠের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে এই দাবির সাংঘর্ষিকতা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


পিআইসির নবনিযুক্ত সদস্য ও সাংবাদিক পাবেল আহমেদ অভিযোগ করেন, কমিটির সভায় সদস্যদের স্বাক্ষর সভার আগে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেছেন, ২৫ ও ৯৩ নং প্রকল্প থেকে এনসিপি নেতা টিপু সুলতান এবং ৪৫ ও ৯৮ নং প্রকল্পসহ একাধিক স্কিম থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম ৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।


সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে শাল্লায় ৬২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪৩.১৭৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের মন্থর গতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।


উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন বলেন, “হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এই হাওর রক্ষা বাঁধ। এই বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরণের দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। প্রকৃত কৃষক দিয়েই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আমরা খুব শিগগিরই মাঠ পর্যবেক্ষণ করব।”


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাইফুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ না হলে বাঁধ টেকসই হবে না। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সংশোধন না হলে কৃষকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, “প্রকৃত কৃষক নিয়েই পিআইসি গঠন করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভার আগে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সব সদস্যের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”


উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বলেন, “কিছু জায়গায় কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে ঠিকই, তবে পিআইসিগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


স্থানীয় কৃষকরা সতর্ক করেছেন, হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে যেতে বাঁধের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সচেতন মহল দাবি করছে, বিতর্কিত পিআইসিগুলো পুনর্গঠন ও দুর্নীতির অভিযোগ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা না হলে, অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতির দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে।

প্রীতম দাস

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad