জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালের চিকিৎসা
সিলেটের শাহী ঈদগাহ এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীন বিশেষায়িত ‘সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতাল’ এখন নিজেই যেন এক ‘রোগী’তে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ ভবন, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং চরম জনবল সংকটের কারণে এখানকার চিকিৎসা সেবা প্রায় অচল হওয়ার পথে।
হাসপাতালের তিনতলা ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ইনডোরের বিছানা ও চিকিৎসাসামগ্রী ভিজে যায়।
হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব্বির আহমেদ বলেন, “ভবনটি এতটাই জীর্ণ যে এখানে কাজ করতেও ভয় লাগে। পলেস্তারা খসে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।”
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা অভিযোগ করেছেন, এখানে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই। হাসপাতালে কোনো প্যাথলজিক্যাল ল্যাব বা আধুনিক সরঞ্জাম নেই। সামান্য রক্তের পরীক্ষার জন্যও রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে যেতে হয়। বাথরুমগুলোতে দরজা নেই এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
ইনডোরে ভর্তি থাকা রোগীরা জানিয়েছেন, সারা দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়। বাকি সময় তাদের কেবল নার্স বা ওয়ার্ড বয়দের ওপর নির্ভর করতে হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনুমোদিত ৫০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৯ জন কর্মরত আছেন। কুষ্ঠ রোগীদের বিশেষ ক্ষত নিরাময়ে উপযোগী জুতা তৈরির দক্ষ কারিগরের পদটি ২০২১ সাল থেকে শূন্য পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় হাসপাতালের পরিবেশ ক্রমাগত নোংরা হচ্ছে। ৯ জন অফিস সহায়কের পদের বিপরীতে বর্তমানে কোনো লোক নেই।
হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নাহিদ রহমান বলেন, “সিলেটের এই হাসপাতালটি দেশের তিনটি বিশেষায়িত কুষ্ঠ হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলেও এর অবস্থা এখন অত্যন্ত করুণ। জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর জনবল সংকটে আমরা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত এ বিষয়ে বলেন, “হাসপাতালের ভবন ও জনবল সংকট নিয়ে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ এবং জনবল নিয়োগের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।”
মোশাহিদ রাহাত
মন্তব্য করুন: