সিলেটে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব: নির্বিকার প্রশাসন
Led Bottom Ad

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিলেটে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব: নির্বিকার প্রশাসন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০২/০২/২০২৬ ০২:০৯:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সিলেট নগরজুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রচারণার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আইন ভাঙার প্রতিযোগিতা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, সড়ক বিভাজক, বিদ্যুতের খুঁটি এমনকি যানবাহনেও সাঁটানো হয়েছে রঙিন ব্যানার, বিলবোর্ড ও অপচনশীল পিভিসি ফেস্টুন। তবে এসব চিত্র নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নজরে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​শনিবার সরজমিনে সিলেট-১ আসন ঘুরে দেখা গেছে, আচরণবিধির তোয়াক্কা না করেই রঙিন পিভিসি বিলবোর্ড টানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। নগরীর রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার ও চৌহাট্টাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের ফুটওভার ব্রিজে তাঁর বড় বড় বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে।

​একই চিত্র দেখা গেছে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ক্ষেত্রেও। তিনি নগরীর প্রায় সব জনবহুল স্থানে পিভিসি ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটানোর পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশাতেও রঙিন পোস্টার লাগিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজক ও গাছে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসানসহ প্রায় সব প্রার্থীই সড়ক বিভাজকের বেড়ায় পিভিসি ফেস্টুন ব্যবহার করছেন।

​নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রকার পোস্টার, রঙিন বিলবোর্ড বা অপচনশীল প্লাস্টিক/পিভিসি সামগ্রী ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি স্থাপনা বা যানবাহনে কোনো প্রকার প্রচারপত্র সাঁটানো নিষিদ্ধ থাকলেও সিলেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

​সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলার সম্পাদক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘর থেকে বের হলেই সাধারণ মানুষের চোখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র পড়ে। কিন্তু প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন কেন দেখছে না, তা রহস্যজনক। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আশেপাশেই অসংখ্য বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এমন নীরবতা জনমনে নির্বাচন নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।”

​প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সাইদুর রহমান জানান, এটি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দেখেন। তবে সিলেট-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীনও দায় ঠেলে দেন এডিএম-এর ওপর। এ বিষয়ে কথা বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রচারণাকালেই যদি প্রার্থীরা এত বেপরোয়া হন এবং প্রশাসন নীরব থাকে, তবে ভোটের দিন পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু থাকবে?

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad