পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘জনগণের সেবায় পুলিশকে নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে’
দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেবেন—সরকার আপনাদের কাছে এটাই প্রত্যাশা করে।”
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাজারবাগে শহীদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আমরা নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই, যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে।” ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নির্যাতিত ও অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি দেশ ও বিদেশের মাটিতে পুলিশের মানবিক আচরণ ও সাহসিকতার দৃষ্টান্ত বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত দিক নিয়ে গবেষকদের কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে সকল পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগে একত্রিত করে রাখার রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে তাঁরা বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন করেন এবং পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: