জুড়ীতে শিক্ষকের নির্যাতনে হাসপাতালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পরীক্ষার খাতায় লিখতে না পারায় পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আবু সাঈদ, তিনি উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের 'বড় ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে' সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে বৃহস্পতিবার বড় ধামাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাত পরীক্ষার খাতায় একটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারায় চরম ক্ষিপ্ত হন শিক্ষক আবু সাঈদ। একপর্যায়ে তিনি তাওহীদার উত্তরপত্র কেড়ে নেন এবং "তোকে দিয়ে আর কিছু হবে না" বলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠে তাওহীদা জানায়:-"আমি লিখতে পারছিলাম না। স্যার আমার পেপার (উত্তরপত্র) কেড়ে নিয়ে যান। এরপর উনি আমার পিঠে মারেন এবং আমার হাত-পা ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন।"
শিক্ষকের উপর্যুপরি মারধরের কারণে একপর্যায়ে তাওহীদার নাক দিয়ে র/ক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষকের এমন অমানবিক ও নির্মম নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাওহীদার পরিবার ও স্বজনরা। ঘটনার পর থেকেই পরিবারে বইছে কান্নার রোল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা অত্যন্ত ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:- "আমার বাচ্চার স্কুল ড্রেস ছিঁড়ে গেছে। আমি এই নির্মমতার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার মেয়ের ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।"
তাওহীদার বাবা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন: "পরীক্ষার সময় আমার মেয়ে একটা পড়া পারেনি, তাই বলে তাকে এভাবে পিটিয়ে নাক দিয়ে রক্ত বের করে দেওয়া হবে? আমি এই ঘটনার কড়া বিচার চাই। আমার মেয়ের সাথে যারা এই অন্যায় করেছে, তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়।"
পরীক্ষাকেন্দ্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকের এমন বর্বর আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাঈদের দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: