সিলেটে ভোটের অঙ্কে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ ও আল ইসলাহ’র ফ্যাক্টর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক ভোটের সমীকরণ। মাঠ পর্যায়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর দিনরাত প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর চারদিক। তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মূল টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নানা কৌশলে এই ‘মৌন’ ভোট নিজেদের পাল্লায় টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন ভোটারের বিশাল একটি অংশ একসময় আওয়ামী লীগের অনুসারী ছিল। দলটি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় এই ভোটগুলো এখন জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা এখন ঘরোয়া বৈঠক আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে জামায়াতের কৌশল কিছুটা ভিন্ন; ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়া বা বৈরী আচরণ না করার বিষয়টি তাঁরা প্রচারণায় ব্যবহার করছেন।
একইসঙ্গে সিলেটের ভোটের মাঠে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত ‘আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (র.) প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের রয়েছে বিশাল এক ভোট ব্যাংক। দলটির ভোটার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ, যার মধ্যে শুধুমাত্র সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনেই রয়েছে অন্তত ৫০ হাজার।
সম্প্রতি আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীর দরবারে বিএনপি, জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের আনাগোনা সেই তৎপরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে আল ইসলাহ ইতোমধ্যে সমর্থন দিলেও বাকি ৫টি আসনে তারা এখনো নীরব। বিশেষ করে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে তারা শেষ পর্যন্ত কাকে সমর্থন দেবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরী প্রার্থীদের দোয়া দিলেও এখনো কাউকে ‘পাকা কথা’ দেননি।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ভোট নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোট প্রত্যাশা করি।” অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “সিলেটের ৯টি আসনে দাঁড়িপাল্লাসহ জোটের অন্যান্য প্রতীকের প্রতি জনগণের সঠিক সিদ্ধান্ত আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”
সিলেটের চা-স্টল থেকে শুরু করে ড্রয়িং রুম পর্যন্ত এখন একটাই প্রশ্ন—আওয়ামী লীগের সেই ‘নীরব’ ভোট আর আল ইসলাহ’র ‘সুসংগঠিত’ ভোট শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জোটে? আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটেই মিলবে এর চূড়ান্ত উত্তর।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: