হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও মিলছে না ন্যায্য মজুরি
Led Bottom Ad

অধিকারবঞ্চিত সিলেটের নারী চা শ্রমিক

হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও মিলছে না ন্যায্য মজুরি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৭/০২/২০২৬ ১০:২১:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের সবুজ পাহাড়ের কোলে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ির’ দেশে চা শিল্পের অগ্রযাত্রায় নারী শ্রমিকরা প্রধান চালিকাশক্তি হলেও তাদের জীবন আজও অধিকারবঞ্চিত ও মানবেতর। দিনভর রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে চা পাতা তুললেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদরের সাথে তাদের আয়ের কোনো সঙ্গতি না থাকায় অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একজন নারী চা শ্রমিক প্রতিদিন ভোরে ঘরের কাজ শেষ করে বাগানে চলে আসেন। সারাদিন দাঁড়িয়ে চা পাতা তোলার পর দিনশেষে তাদের মজুরি অত্যন্ত সামান্য। যদিও গত কয়েক বছরে মজুরি ৩২ টাকা থেকে ধাপে ধাপে বেড়ে ৭৫-১০২ টাকা পর্যন্ত হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের দাবি—বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হলে দৈনিক মজুরি অন্তত ২৫০-৩০০ টাকা করা প্রয়োজন। নবীগঞ্জের ভবান চা বাগানের শ্রমিক অনিকা রানি (৪০) জানান, ১৫ বছর বয়স থেকে বাগানে কাজ করেও তাঁর অভাব মেটেনি। দৈনিক ১৫-২০ কেজি পাতা তুলে যে টাকা পান, তা দিয়ে ছয়জনের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চা বাগানের নারীরা কেবল মজুরি নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং সুপেয় পানির মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। বাগানের ভেতরে উন্নত স্কুল না থাকায় এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে শ্রমিকদের সন্তানরা বর্ণমালার বাইরে খুব একটা এগোতে পারছে না। অনেক বাগানেই আধুনিক হাসপাতাল বা পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। পুষ্টিকর খাবারের বদলে কচি চা পাতা, আলু আর মুড়ি খেয়েই দিনের পর দিন পার করছেন এই কঠোর পরিশ্রমী নারীরা।

নবীগঞ্জের ইমাম বাওয়ানী ভবান চা বাগানের ম্যানেজার বিনয় চন্দ্র বর্মা স্বীকার করেছেন যে, অনেক বাগানেই স্কুল ও হাসপাতালের অভাব রয়েছে। তিনি জানান, ভবান চা বাগানটি নতুন হওয়ায় কিছু সংকট আছে, তবে কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সাধ্যমতো সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

দেশের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা সুবিধা থাকলেও চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য তেমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেই। নিরক্ষরতার কারণে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন হতে পারছেন না। চা শিল্পের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আধুনিক জীবনের মূল স্রোতে আনতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad