২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা পার
সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ, উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী আজ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সুনামগঞ্জ জেলাসহ তাহিরপুর উপজেলার অধিকাংশ বাঁধের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ায় আগাম পাহাড়ি ঢল ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার কয়েক লাখ বোরো চাষি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলায় এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের কাজ চলছে, যার গড় অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৭৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি ছিল এবং বর্তমানে মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকায় সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে। তবে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান ও শনির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, অনেক পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে অনিয়ম হয়েছে এবং পুরনো বাঁধে সামান্য মাটি দিয়ে বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
তাহিরপুর হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মিল হক নাসরুম জানান, অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ এখনো সন্তোষজনক নয়, যা দ্রুত শেষ না হলে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।
অন্যদিকে, পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন জানিয়েছেন, পিআইসিদের মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড় করায় কাজের গতি কিছুটা কম ছিল।
উল্লেখ্য, তাহিরপুরের ২৩টি হাওরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও টেকসই বাঁধের অভাবে এই বিশাল সম্পদ এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জেলার মধ্যনগর, ধর্মপাশা, দিরাই ও শাল্লাসহ অন্যান্য উপজেলা থেকেও বাঁধ নির্মাণে ধীরগতির একই চিত্র পাওয়া গেছে, যা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: