চোরের গ্রামের কাছে অসহায় শাল্লার মানুষ

চুরি যাওয়া মাল ফিরত পেতে লাগে টাকা

চোরের গ্রামের কাছে অসহায় শাল্লার মানুষ

নিশিকান্ত সরকার, শাল্লা

১৭/০৭/২০২৫ ০৯:০৭:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

গ্রামের সবাই চৌর্যবৃত্তির সাথে জড়িত। পেশা হিসেবে নিজেদের জাতীয় পরিচয় পত্রেও পেশা হিসেবে চৌর্যবৃত্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। বলছি দুর্গম হাওর অঞ্চল শাল্লার কথা। চুরের গ্রাম থাকলেও আতঙ্ক ছিল না কারো মনে। কারণ বিভিন্ন গ্রামের সাথে রয়েছে চোরের গ্রামগুলোর মৌখিক চুক্তি। চুক্তির শর্ত মোতাবেক প্রতি বৈশাখীতে দিতে হয় নির্ধারিত পরিমান ধান। এভাবেই চলছিল শান্তিপূর্ণ বসবাস। কিন্তু সম্প্রতি চুক্তি থাকা স্বত্বেও একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে উপজেলার প্রায় ১০/১২ টি গ্রামে। গেল দুই মাসে অন্তত ১৫ টি চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখিত গ্রামের বাসিন্দারা। চুরি ঠেকাতে বিভিন্ন গ্রামে পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। আবারও চুরি করতে পারে এমন ভয়ে কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করছেন না। 


চোরের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। গত মঙ্গলবার রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। শিশির মনির শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, টুকচানপুর, মার্কুলি, প্রতাপপুর, আনন্দপুর, মনুয়া, চবিয়া, মেদা, মুছাপুর, খল্লী, সুধন খল্লী, গ্রাম শাল্লা, মুক্তারপুর, হরিপুর, বলরামপুর, মামুদনগর, উজানগাঁওসহ প্রায় প্রতিটি গ্রামের মানুষ চুরি আতঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিটি চুরির ঘটনার তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার, রাতে পুলিশের টহল ও গোয়েন্দ তৎপরতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, প্রয়োজনে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির অনুরোধও জানান তিনি। আইনজীবী শিশির মনির চিঠিতে দুই মাসে অন্তত ১৬টি চুরির ঘটনা ও টাকার বিনিময়ে কিছু মালামাল ফেরত পাওয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন।


হ্যা ,চুরি যাওয়া মাল আবার ফেরতও পাওয়া যায়। এর জন্য দিতে হয় প্রয়োজনীয় অর্থ। সিঁদ কেটে গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগি, ধান-চাল, স্বর্ণালংকার, নৌকা, ইঞ্জিন, পানির পাম্প ও মোটরসাইকেল চুরি করছে কিছু লোক। আবার চাহিদামতো অর্থ দিলে ফেরতও দিচ্ছে চুরির মালামাল। এই অবস্থা চলছে যুগযুগ ধরে।


শাল্লার একাধিক ব্যক্তি জানান, কামারগাঁও, উজানগাঁও, নারকিলা, বল্লভপুর ও চিকাডুপি গ্রামের কিছু মানুষ চুরির সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলে এদের দমন করা সম্ভব। একটি সিন্ডিকেটের প্রধান কামারগাঁও গ্রামের হান্নান মিয়া। তার মাধ্যমে টাকা দিয়ে চুরির মালামাল ফেরত নিয়েছেন অনেকেই। তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে হান্নান মিয়ার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


শাল্লা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী ফুল মিয়া বলেন, ‘বৈশাখ মাস থেকেই চুরি শুরু হয়েছে। এখন দ্রুত গতির নৌকা দিয়ে চুরি করছে চোররা। পেশাদার চোরদের সাথে এখন প্রভাবশালী কিছু মানুষ জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই লোকগুলোকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব আমরা।’ 


শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘চুরি রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশদের দিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাছ চলছে।’


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad