পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়ায় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণে ফিরছে চিরচেনা রূপ
Led Bottom Ad

পর্যটকশূন্য লাউয়াছড়ায় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণে ফিরছে চিরচেনা রূপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

১৮/০৩/২০২৬ ১৯:৩৯:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পর্যটকদের হইহুল্লোড় নেই, নেই যানবাহনের তীব্র হর্ন কিংবা বনের বুক চিরে চলা ট্রেনের উচ্চ শব্দ। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ফিরে পেয়েছে তার হারানো প্রাণৈশ্বর্য।

সরেজমিনে বন ঘুরে দেখা গেছে, বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের উচ্চৈঃস্বরে ডাক, বানরের অবাধ লাফালাফি আর দেশীয় পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে উঠেছে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা এখন স্বস্তিতে রয়েছে এবং খাবারের সন্ধানে বনের গহিন থেকে বেরিয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি অবাধে বিচরণ করছে। এমনকি আগে সচরাচর শোনা না গেলেও এখন সাতসকালে মায়া হরিণের ডাকও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বনের চারধারে।

লাউয়াছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা সাজু মারছিয়াং জানান, প্রথম রমজান থেকেই বনে পর্যটকদের ভিড় নেই বললেই চলে। ফলে উল্লুক, বন মোরগ ও বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিচরণ বেড়েছে।

পর্যটক এঞ্জেলা বলেন, "বন বনের মতো থাকুক। পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও বাইরের খাবার দেওয়ার ফলে প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।"

উদ্যানের টিকিট মাস্টার জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ পর্যটক আসলেও এখন মাত্র ৭-৮ জন আসছেন, যা বন্যপ্রাণীদের জন্য এক পরম স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে পরিবেশবাদীরা এই সাময়িক স্বস্তিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, "কাঠ চোরদের অপতৎপরতা ও যানবাহনের কারণে বনটি সংকটাপন্ন। বন্যপ্রাণী বাঁচাতে বছরের নির্দিষ্ট কয়েক মাস পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেল ও সড়কপথ বাইপাস করা জরুরি।"

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, রমজানের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে, যা বন্যপ্রাণীদের স্বাচ্ছন্দ্য বোধে সহায়ক হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১,২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত লাউয়াছড়ায় ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ ও উল্লুকসহ ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ বন্যপ্রাণী রয়েছে। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনকে রক্ষা করতে হলে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad