দোয়ারাবাজারে যুবদল নেতার ঘর নির্মাণে বাধা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক যুবদল নেতার পৈতৃক জমিতে বসতঘর নির্মাণে বাধা, চাঁদা দাবি এবং হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাঁও গ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র এই হয়রানির নেপথ্যে রয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জানান, শ্যামারগাঁও গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লাহর ছেলে যুবদল নেতা আমির উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা লাফার্জ বিওপি ক্যাম্প সড়কের উত্তরে তাদের পৈতৃক মালিকানাধীন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তারা পুরনো টিনশেড ঘর ভেঙে দালান নির্মাণের কাজ শুরু করলে পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম, আশরাফ আলী, নুরুল হক ও মোস্তফাসহ একটি চক্র তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রটি আমির উদ্দিনের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিতে শুরু করে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাবাজার এলাকায় যাতায়াতের সময় অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে উৎপেতে থাকে এবং আমির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আব্দুস সালাম ও আশরাফ আলী চক্র সুনামগঞ্জ আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে।
শ্যামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও আব্দুল কাদির বলেন, "বিরোধপূর্ণ জমির পাশ দিয়ে পানি চলাচলের পর্যাপ্ত রাস্তা রয়েছে। এটি কোনো সরকারি খাল বা নির্ধারিত পথ নয়। কেবল বৃষ্টির সময় ফসলি জমির সামান্য পানি নামে। আমির উদ্দিন পানি চলাচলের জায়গা রেখেই ঘর তুলছেন। অথচ চাঁদাবাজ চক্রটি উন্নয়নের কাজে বাধা দিচ্ছে।"
নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর উদ্দিন আহমদ জানান, "আমি বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছি। এটি কোনো খাল নয়, কেবল ফসলি জমির সামান্য পানি চলাচলের পথ। জমিটি আমির উদ্দিনের বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি পানি চলাচলের পথ রেখেই ঘর নির্মাণ করছেন। পূর্ব ঘিলাতলীর কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করছে।"
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, "উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, তাই প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বর্তমানে সীমিত।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: