সড়কে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের মরদেহ বহনে এসনিক এর অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা-র তেলিবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আট শ্রমিকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার বিকেলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় মরদেহ বহনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সহায়তা দিয়েছে এসিড সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি (এসনিক)।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লাহ গোলজার জানান, উপস্থিত সময়ে পাঁচটি পরিবারের স্বজনদের পাওয়া যায়। তাদের হাতে নগদ অর্থ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ বহনে সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সংগঠনের পক্ষ থেকে এগিয়ে আসা হয়। গাড়ি ভাড়া বাবদ সহায়তার টাকা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিনের স্বজনরা জানান, যেখানে রাষ্ট্রের এগিয়ে আসার কথা ছিল, সেখানে একটি সামাজিক সংগঠন পাশে দাঁড়িয়েছে—এটি তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। নিহত ফরিদুল ইসলামের ভাইও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রো-ভিসি সাজেদুল করিম বলেন, আটজন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত। সামাজিক সংগঠন এসনিকের এই উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও শ্রমিকবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে দুজন নারীও ছিলেন।
নিহতরা হলেন—বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা-র পলাশ গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন, ধর্মপাশা উপজেলা-র সরিষা গ্রামের নার্গিস আক্তার, দিরাই উপজেলা-র সেচনী গ্রামের মনি বেগম, ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী ও ফরিদুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-র শিবপুর গ্রামের পাণ্ডব বিশ্বাস এবং পুটামারা গ্রামের বদরুল আমিন।
তারা ভোরে আম্বরখানা মোড় থেকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে লালাবাজার এলাকায় কাজের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকচালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: