সুনামগঞ্জে উপবৃত্তির প্রলোভনে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা: শিক্ষককে গণধোলাই
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসায় উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক আরবি প্রভাষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সামসুল হুদা। শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার মাদ্রাসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে আনেন প্রভাষক সামসুল হুদা। শিক্ষক মিলনায়তনে একা পেয়ে তিনি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ছাত্রীটি কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে এলাকায় জানাজানি হয়। সন্ধ্যার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে উত্তম-মধ্যম দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামসুল হুদার বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে এই মাদ্রাসায় যোগদানের পর মুঠোফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের দায়ে থানায় অভিযোগ হলে তাকে একবার বরখাস্ত করা হয়েছিল।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য মাদ্রাসা সুপার ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরুপ কুমার রায় এই ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। মাদ্রাসার অভ্যন্তরে একজন ছাত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: