‘নবাবী’ হালে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা

সরকারি গাড়িতে প্রমোদভ্রমণ ও অফিস ফাঁকি

‘নবাবী’ হালে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৪/০৭/২০২৬ ২১:৪৮:৫২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকারি বিধিমালা অমান্য করে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) নিবাস চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে। দাপ্তরিক কাজের তোয়াক্কা না করে নিয়মিত সরকারি গাড়ি নিয়ে সিলেটে অবস্থান, সন্তানকে কোচিংয়ে পৌঁছে দেওয়া, কেনাকাটা এমনকি পর্যটন কেন্দ্রে পারিবারিক ভ্রমণের মতো কাজে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। এতে সরকারের বড় অংকের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অপচয় হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


​অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই নিবাস চন্দ্র দাস কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ছুটি ছাড়া সিলেটে নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোর বড় অংশেই তিনি সরকারি গাড়িটি নিয়ে সিলেটে চলে যান।


​প্রাথমিকভাবে তিনি গাড়িটি সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন 'প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন'-এর গ্যারেজে রাতে রাখতেন। তবে বিষয়টি বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পরবর্তীতে গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান পরিবর্তন করে তা আড়াল করার চেষ্টা করেন তিনি।


​অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গাড়িতে করে তাঁর সন্তানদের নিয়মিত কোচিংয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি তিনি সরকারি ওই গাড়ি ব্যবহার করেই পরিবার নিয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র বিশেষ করে জাফলং ও শ্রীমঙ্গলে ভ্রমণ করেছেন।


​সর্বশেষ বিগত রবিবারে অফিসে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান শেষে বিকেলে সরকারি গাড়ি নিয়ে সিলেটে চলে যান উপপরিচালক। পরদিন সোমবার দাপ্তরিক কোনো অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পুরো দিন সিলেটে সরকারি গাড়িতে পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত কাজ সেরে মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে ফিরে আসেন।


সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজ ব্যতীত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উদ্দেশ্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার স্পষ্টত বিধিবহির্ভূত। প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না হয়েও এভাবে গাড়ির অপব্যবহারকে আইন অনুযায়ী সরকারি অর্থের অপচয় ও ‘সরকারি সম্পদের অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।


​অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিবাস চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের কাছে কোনো কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নই। আমি যা করি, সিলেটের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জানিয়েই করি।


​তবে উপপরিচালকের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই এবং কাউকে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


​স্থানীয়দের মতে, সরকারি কর্মচারীদের এমন বেপরোয়া আচরণ ও সম্পদের অপব্যবহার রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

















































প্রীতম দাস/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad