রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলেন স্পিকার

প্রথম ডেস্ক

২৪/০৭/২০২৬ ২২:৫৫:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দীর্ঘ নাটকীয়তা, রাজনৈতিক গুঞ্জন আর নানা সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের অলিন্দ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্দরে যে প্রশ্নটি এতদিন কেবল ফিসফাস আর গুঞ্জনের বেড়াজালে বন্দী ছিল, তা বাস্তবে রূপ নিলো শুক্রবার।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পেছনে অসুস্থতাকে কারণ দেখানো হয়েছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিকাল সাড়ে ৫টায় সংসদ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বিকাল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে পদত্যাগপত্র দখিল করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান। ফলশ্রুতিতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডের সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।

সাহাবুদ্দিন কেন পদত্যাগ করেছেন তার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি গুরুতর অসুস্থ; হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, এর আগেও রাষ্ট্রপতিরা পদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন কারণে। রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ারটা কখনো শূন্য থাকে না।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন বলে মনে করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। তবে সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা শুরু হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাময়িক ভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে হয় স্পিকারকেই। ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বিধান রয়েছে সংবিধানে। দেশের সংসদ সদস্যেরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।

সাহবুদ্দিনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। যেহেতু সংসদে বর্তমানে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই তাদের মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে ক্ষমতাসিনদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad