চার শিশুকে রেখে না ফেরার দেশে বাবা, হাসপাতালে লড়ছেন মা
Led Bottom Ad

সিলেটের তেলিবাজারে সড়ক দুর্ঘটনা

চার শিশুকে রেখে না ফেরার দেশে বাবা, হাসপাতালে লড়ছেন মা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৩/০৫/২০২৬ ২২:৪৫:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেলিবাজারে রবিবারের সেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ওলটপালট করে দিয়েছে একটি সাজানো পরিবারকে। যে চার শিশু সন্তানকে ঘরে রেখে জীবিকার তাগিদে ভোরে কাজে বেরিয়েছিলেন নির্মাণশ্রমিক দম্পতি বদরুজ্জামান ও হাফিজা বেগম, তাদের জীবনে এখন নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। ট্রাক ও পিকআপের সেই মুখোমুখি সংঘর্ষ কেড়ে নিয়েছে বাবা বদরুজ্জামানের (৪৫) প্রাণ, আর মা হাফিজা বেগম (২৮) গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। তবে মর্মান্তিক বিষয় হলো, চিকিৎসাধীন হাফিজা এখনও জানেন না যে তার জীবনসঙ্গী আর নেই; তিনি ভাবছেন স্বামীও হয়তো অন্য কোনো ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রবিবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মায়ের শয্যার পাশে বসে আছে অবুঝ চার শিশু সন্তান—তিন ছেলে ও এক মেয়ে। কেন তাদের বাবা আসছে না, কিংবা মা কেন ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছে, তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না এই শিশুরা। প্রায় দুই বছর আগে সচ্ছলতার আশায় কোম্পানীগঞ্জের গ্রাম ছেড়ে সিলেট শহরের শামীমাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তাদের সব স্বপ্ন চুরমার করে দিল।

নিহতের চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘বাচ্চাগুলো এখন এতিম হয়ে গেল। ওদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আমরা দিশেহারা।’

অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নগরের সুবিদবাজার এলাকায় থেকে শ্রমিকের কাজ করতেন তারা। দুই ছেলেকে একসঙ্গে হারিয়ে তাদের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। তেলিবাজারের সেই রাজপথ আজ শুধু রক্তেই রঞ্জিত হয়নি, নিভিয়ে দিয়েছে শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad