প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ঢালাই
শাল্লায় সরকারি লিজের শর্ত ভেঙে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি ‘একসনা বন্দোবস্ত’ বা বার্ষিক লিজের শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার কান্দিগাও গ্রামের আব্দুল করিম ও চব্বিশা গ্রামের সাদিকুর রহমান প্রশাসনের জারি করা লাল নিশান ও মৌখিক নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই বাজারভিটায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। সরকারি ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী বাজারভিটায় কেবল অস্থায়ী বা কাঁচা ঘর তোলার অনুমতি থাকলেও আইন অমান্য করে ইতোমধ্যেই ভবনটির একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লিজ নেওয়া এই জমি কেনাবেচার কোনো আইনি বিধান না থাকলেও আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তি এটি অন্য একজনের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন নির্মাণাধীন ভবনে লাল নিশান টাঙিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে কয়েক দিনের মাথায় পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়।
ভবন মালিক সাদিকুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, জনৈক আব্দুল মজিদের মধ্যস্থতায় প্রশাসন ও স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বিষয়টিকে অস্বীকার করে জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাদ ঢালাই হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করায় অভিযুক্তদের লিজ বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অন্যথায় উপজেলার সরকারি জমিগুলো সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: