একটি সেতুর অপেক্ষায় গোয়াইনঘাটের ৫০ হাজার মানুষ
Led Bottom Ad

নদী পেরোতেই জীবনঝুঁকি

একটি সেতুর অপেক্ষায় গোয়াইনঘাটের ৫০ হাজার মানুষ

আমির উদ্দিন, গোয়াইনঘাট

২০/০৪/২০২৬ ১৬:১৬:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভোরের কুয়াশা কাটতে না কাটতেই ছোট একটি নৌকায় ওঠে কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া। কারও হাতে বই, কারও কাঁধে ব্যাগ। তাদের চোখে ভয়, তবু যেতে হবে—স্কুলে পৌঁছাতে হলে এই নদী পার হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।


এভাবেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা-এর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।


উপজেলার ১২ নম্বর সদর ইউনিয়নের উত্তর লাবু এলাকার কাছে বয়ে যাওয়া প্রায় ৬৫ মিটার প্রশস্ত পিয়াইন নদী এখানে যেন এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নদীর ওপর অলীরখাল নামের স্থানে কোনো সেতু নেই—আছে শুধু খেয়া নৌকা, বাঁশের সাঁকো, আর অনিশ্চয়তা।


বর্ষা এলে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে স্রোতের তোড়ে নৌকায় ওঠাটাই হয়ে যায় দুঃসাহসিক কাজ। অনেক সময় স্কুলগামী শিশুদের ক্লাস ফাঁকি দিতে হয়, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে দেরি হয়, আর জরুরি প্রয়োজনে পড়তে হয় চরম বিপাকে।


লাবু, লাটি, কালিজুরী, দোয়ারীখেল হাওর, মাদ্রাসা মহল্লা, বেড়িবিল, পিরের বাজার ঢালার পার ও দক্ষিণ প্রতাপপুর—এই বিস্তীর্ণ জনপদের মানুষ যেন এক বিচ্ছিন্ন জীবনে আটকে আছেন। অথচ এসব এলাকায় রয়েছে একাধিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের এই দুর্ভোগের শেষ হয়নি। “আমরা যেন এখনো দ্বীপেই বাস করি”—কথাটিতে মিশে আছে দীর্ঘদিনের হতাশা।


আহারকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী এনাম উদ্দিন বললেন,“একটা ব্রীজ না থাকার কারণে আমাদের বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। বাজারে যাওয়া-আসা করাও খুব কষ্ট। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই।”


১২ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী সুমন বলেন, সেতু নির্মাণের দাবিটি নতুন নয়। “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করছি। দুই পাশে সড়কও তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু ব্রীজটাই বাকি।”


সম্প্রতি এই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আরিফুল হক চৌধুরী এলাকায় এসে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, সেতুটি নির্মাণ এখন অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

“মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আমরা স্থানটি পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে সার্ভে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”


তবু অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। প্রতিদিন নদী পার হওয়ার সময় মানুষ শুধু একটাই প্রশ্ন করে—

আর কতদিন?

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad