৬ কোটির প্রকল্পে শুভঙ্করের ফাঁকি
হবিগঞ্জে নদী খননে বৃষ্টির অজুহাতে অনিয়মের মহোৎসব
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় শেরখাই ও নরখাই নদীর নাব্য সংকট দূর করতে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত ৬ কোটি ১২ লাখ টাকার খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে বৃষ্টির মৌসুম পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ এবং বর্তমানে পানির নিচে দায়সারা খনন কাজ চালিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অনিয়ম ঢাকতেই কৃত্রিমভাবে কাজের গতি ধীর করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীগলবাক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনকে সভাপতি করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কমিটি গঠন করা হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিলেও কাজ চলছে সেই আগের কমিটির মাধ্যমেই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয় ২৬ মার্চ পর্যন্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈশাখের বৃষ্টি শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে পানির নিচে কতটুকু খনন করা হলো তা দৃশ্যমান না থাকে। বর্তমানে ভরা নদীতে ২-৪ হাত খনন করেই ১০-১৫ হাতের বিল করার পাঁয়তারা চলছে। নিয়ম অনুযায়ী নদীর পাড়ে মাটি রাখার কথা থাকলেও অধিকাংশ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রভাবশালীরা সেই মাটি দিয়ে নিজেদের পুকুর ভরাট করেছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন অনিয়মের দায় এড়িয়ে বলেন, "আমরা কাজ করছি, কোনো সমস্যা হলে প্রকৌশল অফিস দেখবে।" অন্যদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য আরও বিস্ময় জাগিয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে পানির নিচের এই খনন পরিমাপ করা হবে এবং তাদের অনুমতি নিয়েই এভাবে কাজ চলছে। তবে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমীন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তদন্তের আগেই 'কাদাজলে' ধুয়ে যাবে দুর্নীতির সব চিহ্ন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: