অংশগ্রহণ করবে ১৮ লাখ পরীক্ষার্থী
কাল শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা
দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা সমাপনীর সবচেয়ে বড় আয়োজন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রথম দিন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
এ বছর পরীক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে গত বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা এ বছর কমে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৩০ হাজার ৪২৫টিতে উন্নীত হয়েছে। সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
এবারের পরীক্ষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রশ্নফাঁসরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গ্রহণ করা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র পরিবহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের কক্ষ পরিদর্শনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কারো মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রের প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে সুপেয় পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আইপিএস বা জেনারেটরের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রসচিবদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সেট কোড ব্যতিরেকে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে বাসসকে জানিয়েছেন, সরকার একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, এবার থেকে কোনো পাবলিক পরীক্ষায় 'নীরব বহিষ্কার'-এর সুযোগ থাকছে না এবং ১৯৬১ সালের নীতিমালার ২৯ নং অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: