সিলেটে সিসিকের ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

সিলেটে সিসিকের ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৪/০৬/২০২৬ ১৩:০২:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের তীব্র বিরূপ প্রভাব থেকে সিলেট মহানগরীকে চিরসবুজ ও নিরাপদ রাখতে এক বিশাল ও মহাপরিকল্পিত পরিবেশগত মহোৎসবের সূচনা করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে পুরো দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ মেগা কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট অংশ হিসেবে সিসিক এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে মহানগরের দক্ষিণ সুরমাস্থ সিসিকের নিজস্ব এসফল্ট মাঠ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গাছের চারা রোপণ করে এই সবুজ বিপ্লবের শুভ উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সমসাময়িক পরিবেশগত বিপর্যয় ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক পরিবেশ দূষণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যে ভয়াবহ বিরূপ প্রভাব ও তাপদাহ আমরা লক্ষ্য করছি, তা মোকাবিলা করে মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। অতীতে বিভিন্ন মহলের নির্বিচারে গাছ কাটা ও নির্মম বৃক্ষনিধনের ফলে আমাদের প্রকৃতির আদিম ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে; এই নির্মম ও কঠিন বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ঐতিহাসিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই মহৎ ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।”

তিনি সিসিকের নিজস্ব সবুজ পরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণা করে আরও বলেন, “দেশের অন্যান্য সিটির তুলনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভৌগোলিক আয়তন তুলনামূলকভাবে কিছুটা সীমিত ও ঘনবসতিপূর্ণ হলেও আমরা পরিবেশ সুরক্ষায় নগরীর উপযুক্ত স্থানগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ হাজার স্থায়ী বৃক্ষরোপণের এক বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আজ যে দক্ষিণ সুরমার এসফল্ট মাঠে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে, এখানে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত উপায়ে পরিবেশবান্ধব ও ফলদ-বনজ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন প্রজাতির উন্নত গাছের চারা রোপণ করা হবে; এবং এই ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের খালি, পরিত্যক্ত ও উপযুক্ত স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে আমাদের এই রাষ্ট্রীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সিসিকের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি তুলে ধরে বলেন, “সবুজ নগরী গড়ার লক্ষ্যে সিসিকের প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগ যৌথভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত ও খালি স্থান চিহ্নিত করার কাজ দিনরাত চলমান রেখেছে; শহরের যেখানেই পরিবেশগতভাবে উপযোগী ও ফাঁকা স্থান পাওয়া যাবে, সেখানেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি খরচে বৃক্ষরোপণ করে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।” অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ আশিক নূর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খানসহ সিসিকের বিভিন্ন জোনাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষাংশে এসফল্ট মাঠে চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করা হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিবেশ সংরক্ষণে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় নগরীর প্রতিটি সচেতন নাগরিককে যার যার নিজস্ব অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান সিসিক প্রশাসক।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: