দোয়ারাবাজারে স্ত্রী’র পলায়নে ৪০ লিটার দুধে ধোয়া স্বামী!
১৭ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে তিন সন্তান ও সংসার ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট দিয়েছেন স্ত্রী। আর সেই ক্ষোভ ও ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্ত হতে ৪০ লিটার দুধ ঢেলে রাজকীয় গোসল সেরেছেন ভুক্তভোগী স্বামী! ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কলাউড়া গ্রামে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার পর ব্যতিক্রমী এই গোসল সম্পন্ন করেন সোহেল আহমদ রানা (৩৯)। ইতিমত্যেই তার দুধ-গোসলের দৃশ্য নেটদুনিয়ায় তুমুল ঝড় তুলেছে।
২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে গরোয়া গ্রামের মাহমুদা আক্তারকে (৩৫) বিয়ে করেন প্রবাসী সোহেল রানা। তাদের ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্ত্রীকে মোবাইল রিচার্জের জন্য দূর সম্পর্কের এক ভাগিনা খোয়াজ আহমদ ফয়েজের দোকানে পাঠান সোহেল। ফয়েজ নিজেও বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। সেই রিচার্জের দোকান থেকেই মূলত শুরু হয় গোপন প্রেম। প্রবাসী স্বামী টের পেয়ে বারণ করলেও শোনেননি স্ত্রী। অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে সোজা প্রেমিকের ঘরে গিয়ে ওঠেন মাহমুদা।
শনিবার বিকেলে দুই পরিবারের মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে স্ত্রীকে তালাক দেন সোহেল। তালাকনামায় সই করেই বাড়িতে এনে ঢালেন ৪০ লিটার দুধ। ছিটানো দুধে নিজেকে সিক্ত করতে করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে বলেন, “১৭ বছরের সংসার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করছি। আমি এখন পবিত্র হলাম, আগে অপবিত্র ছিলাম!”
সোহেল রানা আক্ষেপ করে আরও বলেন, “মায়ের পছন্দের বউ আমার মান-সম্মান সব শেষ করেছে। ওই প্রেমিকের পেছনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা উড়িয়ে এখন সন্তান ফেলে ভেগেছে। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে এই পাপ থেকে মুক্ত করলাম।”
এদিকে ঘটনার পর দিন শনিবার রাতেই পরকীয়া প্রেমিক খোয়াজ আহমদ ফয়েজকে একটি পুরনো পরোয়ানাভুক্ত মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পলাতক মাহমুদার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে, আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে।
মাসুদ রানা সোহাগ / ডিডি
মন্তব্য করুন: