২ গাভী থেকে ৩২ গাভীর বিশাল খামার! সিলেটের উদ্যোক্তা আনোয়ার
বুকের ভেতর যদি থাকে একরাশ স্বপ্ন দেখার সাহস, আর বাহুতে থাকে কঠোর পরিশ্রমের শক্ত শক্তি—তবে অসম্ভবকেও যে সম্ভব করা যায়, তার এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত গড়েছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর পুড়া বাড়ি এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন ময়না। শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর এই রোমাঞ্চকর পথচলায় তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে দেশের মাটিতেই সোনালী ফসল ফলানো সম্ভব!
আনোয়ার জানান ২০১৭ সালে মাত্র দুটি গাভী বুকভরা আশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই ছোট্ট পদক্ষেপ আজ বিশাল এক সোপানে রূপ নিয়েছে! দীর্ঘদিনের নিরলস ঘাম ঝরানো পরিশ্রম, সততা আর সুপরিকল্পিত ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে আজকের ‘সুরমা ডেইরি ফার্ম’।
আজ সেই খামারে শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি গাভী! প্রতিদিন ভোরে খামার থেকে বের হচ্ছে প্রায় ২৫০ লিটার খাঁটি ও মানসম্মত দুধ, যা মেটাচ্ছে স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা। শুধু নিজের ভাগ্য বদলাননি, খামারে ৪ জন শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেশ কয়েকটি পরিবারের মুখেও ফুটিয়েছেন হাসির রেখা।
উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন ময়না সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া গ্রামের মো. মালিক উদ্দিনের ছেলে। ৬ ভাই ও ৪ বোনের বেশিরভাগই প্রবাসে সেটেল্ড, কিন্তু আনোয়ার বেছে নিয়েছেন দেশের মাটিকেই। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিলেট জেলা শাখা)।
নিজের অনুভূতির ঝুড়ি খুলে আবেগঘন কণ্ঠে উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন ময়না বলেন-“আল্লাহর রহমত আর মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি”
তিনি বলেন, শুরুটা তো একদম ছোট একটা স্বপ্ন দিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বুকভরা সততা, অক্লান্ত পরিশ্রম আর ওপরওয়ালার অশেষ রহমত আমাকে আজকের এই অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। তবে এই সুরমা ডেইরি ফার্ম এখানেই থেমে থাকবে না! এটিকে আরও আধুনিক ও বিশাল পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে আমার। দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ সরবরাহ করে প্রাণিসম্পদ খাতে এক নতুন অধ্যায় লিখতে চাই।
ইসলামপুর পুড়া বাড়ির বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, এখানকার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা, হৃদয়ের গভীর থেকে আসা ভালোবাসা আর পরামর্শ না পেলে হয়তো আমি এতদূর আসতে পারতাম না। তাদের উৎসাহই আমার প্রতিদিন এগিয়ে যাওয়ার অক্সিজেন! আগামীতেও সবাইকে সাথে নিয়ে আরও বড় স্বপ্নের পেছনে ছুটতে চাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা সানন্দে স্বীকার করেন, সুরমা ডেইরি ফার্ম কেবল একটি বাণিজ্যিক দুগ্ধ খামার নয়—এটি স্বপ্নবাজ তরুণদের জন্য পথদেখানো এক আলোর মিনার!
আজকের দিনে যখন হাজারো শিক্ষিত তরুণ এক চিমটি চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে হতাশায় ভোগেন, তখন আনোয়ার হোসেন ময়নার এই অদম্য লড়াই যেন উচ্চস্বরে জানিয়ে দেয়—“কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত কোনো পিছিয়ে থাকা ক্ষেত্র নয়, এটি হতে পারে আত্মমর্যাদা আর সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম!”
আত্মবিশ্বাস আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দেশের মাটিতেই যে সোনা ফলানো সম্ভব, সুরমা ডেইরি ফার্ম আর তার কাণ্ডারি আনোয়ার আজ সেই সম্ভাবনার এক জীবন্ত ও অনুকরণীয় মডেল।
ডিডি/ নীরব
মন্তব্য করুন: