শ্রীমঙ্গলে ঘরের ভেতর থেকে আঁচড়া ও অজগর সাপ উদ্ধার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে একটি বেত আঁচড়া সাপ ও একটি অজগর উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। উদ্ধার করা সাপ দুটি পরে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ঘরের সানশেডের ওপর একটি সাপ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে ‘বেত আঁচড়া’ সাপ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গলের উত্তর ভাড়াউড়া মাঝেরগাঁও এলাকার রিপন দেবের বাড়ির আঙিনায় একটি অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মীরা সেখান থেকেও সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন। দুটি সাপই বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন জানায়, সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে তারা বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১২টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি অজগর, তিনটি দারাশ সাপ, দুটি বেত আঁচড়া, একটি তক্ষক এবং একটি বিরল প্রজাতির ‘ক্যান্টর কুকরি’ সাপ রয়েছে।
বন্যপ্রাণী কেন লোকালয়ে আসছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও বনাঞ্চলসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বনভূমি দখল করে জনবসতি, রিসোর্ট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও খাদ্যের তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় এসব প্রাণী রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় মারা যায়, আবার কখনো মানুষের হাতে প্রাণ হারায়। বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বা তাদের ক্ষতি না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দ্রুত খবর দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শাহিন আহমদ / মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: