প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
বোমারু মামুনের নেতৃত্বে দেশে বড় জঙ্গি হামলার শঙ্কা
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কুড়িয়ে পাওয়া পরিত্যক্ত বোমার সূত্রের ধরে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুই দশক পর আবারও নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে তাদের উত্তরসূরিরা। অন্যতম আলোচিত উগ্রবাদী নেতা নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’-এর নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ভবিষ্যৎ হামলার শঙ্কা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ না নিলে দেশকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্যদের অনেকেই কারামুক্ত হন বা পালিয়ে যান। বর্তমানে তারা ছোট ছোট ‘স্লিপার সেল’ গঠন করে সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং নতুন করে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশাল কাঠামোর পরিবর্তে ছদ্মবেশে বিচ্ছিন্ন কৌশলে কাজ করায় তাদের শনাক্ত করাও জটিল হয়ে পড়ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে বেকায়দায় ফেলতে এবং প্রতিশোধমূলক বিশৃঙ্খলা তৈরিতে এরা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আঁটছে। কেরানীগঞ্জে অর্ধশতাধিক বোমা তৈরি এবং গত ২৫ জুলাই মতিঝিলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রার পথে আইইডি (ছাতাবোমা) রাখার পেছনেও এই গোষ্ঠীর যোগসূত্র পাওয়া গেছে। আগামী দিনে যে কোনো বড় জনসমাগমস্থল বা গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (Key Point Installation) স্থাপনা তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মতিঝিলের ঘটনার তদন্তে সিটিটিসির সামনে বারবার আসছে ২০১৭ সালের پان্থপথের ‘হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’-এ আত্মঘাতী হামলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নাজমুল হাসান ওরফে বোমারু মামুনের নাম। তৎকালীন ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ অভিযানের মামলা তদন্তে ১৫ জন আসামির মধ্যে তার নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছিল। পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া কিংবা আত্মগোপনে থাকা এই কুখ্যাত কারিগরই বর্তমানে বোমা তৈরি ও এই উগ্রবাদী কার্যক্রমের নেপথ্যে সমন্বয়কের ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।
বিদ্যমান পরিস্থিতি কেবল আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চক্রান্ত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিএমপি, সিটিটিসি, র্যাবসহ সমস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সারা দেশে উগ্রবাদীদের গোপন আস্তানায় দ্রুত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ও জেল থেকে পালানো উগ্রবাদীদের প্রতিটি গতিবিধি প্রযুক্তির সহায়তায় কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। তাছাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, ধর্মীয় উৎসব, রাজনৈতিক সমাবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়াতে হবে। উগ্রবাদীদের কাছে কাঁচামাল বা অর্থ পৌঁছানোর পথগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত তা অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
উগ্রবাদীদের এই নতুন চক্রান্ত অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে কালক্ষেপণ না করে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও সমন্বিত যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: