শাল্লায় ৬ জন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা, ভাতা পাচ্ছেন প্রতি মাসে

শাল্লায় ৬ জন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা, ভাতা পাচ্ছেন প্রতি মাসে

নিশিকান্ত সরকার, শাল্লা

০৬/০৮/২০২৬ ২১:০১:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৬ জন জুলাই যোদ্ধার সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে এই ৬ জন সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের কাছে বিষয়টি অজানা থাকলেও আহত ব্যক্তিরা জানান, শাল্লায় কোনো সরাসরি আন্দোলন না হলেও ঢাকা, গাজীপুর ও সিলেটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা গুলিবিদ্ধ ও আহত হন।

প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, তারা প্রথম তালিকার ‘সি’ গ্রেডভুক্ত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।

গেজেটভুক্ত এই ৬ জুলাই যোদ্ধা হলেন—আটগাঁও ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের তৌকির মিয়া (গেজেট নম্বর ৪৪০), তাঁর আপন ভাই মো. রিয়ান মিয়া (গেজেট নম্বর ৪৪২), তাঁদের চাচাতো ভাই দিপু মিয়া (গেজেট নম্বর ৪৪৩) ও ভাতিজা মোশারফ হোসেন (গেজেট নম্বর ৪৪১); একই ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামের মো. রুবায়েদ মিয়া (গেজেট নম্বর ৪৪৪) এবং হবিবপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের রেদুয়ান মিয়া (গেজেট নম্বর ৫০৭)।

স্থানীয় রাজনীতিতে এই বিষয়টি অনেকটাই অচেনা ছিল। শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ মিয়া বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে শাল্লায় কোনো বড় আন্দোলন হয়নি। গতকাল ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের সময় আমরা প্রথম জানতে পারি তারা গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। তারা ঠিক কোথায় আন্দোলন করেছেন, তা স্থানীয় অনেকেরই জানা ছিল না।”

একই বিষয়ে শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার) বলেন, “শাল্লায় সরকারি গেজেটভুক্ত ৬ জন জুলাই যোদ্ধা আছেন, তা সাংবাদিকের মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। এর আগে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”

আহত ও গেজেটভুক্ত যোদ্ধারা জানান, রুটি-রুজির তাগিদে কাজের সূত্রে বা পড়াশোনার জন্য তারা এলাকার বাইরে অবস্থানকালে আন্দোলনে যুক্ত হন।

গাজীপুরের সফিপুর লিডা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তৌকির মিয়া। আন্দোলনের স্মৃতিকথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আনসার একাডেমির সামনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে আমি একাধিক গুলিবিদ্ধ হই। গাজীপুর মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর আবেদন করে গেজেটভুক্ত হই। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকার এককালীন অনুদান এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি।”

তৌকিরের ভাই রিয়ান মিয়া জানান, বাড়ি থেকে গিয়ে ২ আগস্ট গাজীপুরে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অন্যদিকে তাঁদের চাচাতো ভাই জুতা কারখানার কর্মী দিপু মিয়া এবং ভাতিজা মোশারফ হোসেন ৪ আগস্ট গাজীপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেটের সামনে পুলিশ ও আনসারের সাথে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। তারা জানান, মডার্ন, তানহা ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা শেষে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হন।

অন্যদের মধ্যে ভাটি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী রেদুয়ান মিয়া জানান, ৪ আগস্ট সিলেটের বন্দরবাজার লালদিঘীরপাড় এলাকায় আন্দোলনকালে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও এখনো তাঁর মাথায় ৫টি গুলি রযে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “শাল্লায় গণঅভ্যুত্থান দিবসে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেছি। তবে চিকিৎসা সহায়তার চেয়েও আমাদের বড় দাবি—সরকার যেন দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করে।”

আরেক গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা রুবায়েদ মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, সরকারিভাবে শাল্লা উপজেলায় ৬ জন গেজেটেড ও ভাতাপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন। প্রাথমিক তালিকায় ৭ জন থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকায় একজনের নাম বাদ পড়ে। গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল; উপস্থিত তিনজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকিরা কর্মস্থলে থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad