তাহিরপুরে মাদকবিরোধী টিমের ওপর ইয়াবা ডিলারের তাণ্ডব, রক্তাক্ত ৪
তাহিরপুর উপজেলায় চিহ্নিত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন 'মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদ'-এর সদস্যরা। অভিযানের মুখে পুলিশ যেখানে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল, সেখানে সাধারণ নাগরিকদের এই উদ্যোগকে চরম ধৃষ্টতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত তাণ্ডব চালিয়েছে সশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেট। এতে সংগঠনের নেতাসহ অন্তত চারজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মাহারাম গ্রামে চিহ্নিত ইয়াবা ডিলার মাসুক মিয়ার বাড়িতে এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় অভিযুক্তরা ধাওয়াকৃত এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে হাতকড়ামুক্ত করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাহারাম গ্রামের মাসুক মিয়া ও তার সহযোগীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের প্রায় ১০ সদস্যের একটি দল বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্পকে অবহিত করে মাসুক মিয়ার বাড়ি অভিমুখে যায়। তবে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সাথে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
টিমটি মাসুক মিয়ার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে আসেন এবং হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পুলিশ ডিবিও ফিরে গেছে, তোরা সাহস কোথায় পেলি? এসময় বাড়ির ভেতর থেকে পালানোর চেষ্টাকালে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলামকে ধাওয়া করে আটকে ফেলেন পরিষদের সদস্যরা।
পরিষদের অভিযোগ, আসামি আটকের পর চিহ্নিত কারবারিরা প্রায় এক ঘণ্টা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে ঘরে থাকা বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান পেছনের জানালা ও দরজা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশির উদ্দেশ্যে পরিষদের চারজন সদস্য ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাইরে অবস্থানরত বাকি সদস্যদের ওপর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো রামদা ও লাঠিসোটার আঘাতে পরিষদের অন্যতম সদস্য আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা আটককৃত আসামি সাইফুল ইসলামকেও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সেখান থেকে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি আল আমিন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় হত্যাচেষ্টা, সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর জখম ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মাদকবিরোধী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃহত্তর সামাজিক ও আইনগত কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুক মিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আত্মগোপনে থাকায় তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অঞ্চলটিতে মাদক কারবারিদের এমন বেপরোয়া তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে মাহারাম গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে যৌথ অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পিডি/ ডিডি
মন্তব্য করুন: