সিলেটে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৯

সিলেটে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৯

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৪/০৬/২০২৬ ১৭:২০:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে হামের প্রাদুর্ভাব ও উপসর্গ নিয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিতে গিয়ে সম্প্রতি একজন সেবিকার (নার্স) মৃত্যুর পর এই আতঙ্ক এখন আরও ঘনীভূত হয়েছে। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে আরও এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে পুরো বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সর্বমোট ৬৯ জনে।


রবিবার (১৪ জুন) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


মারা যাওয়া শিশুটির নাম জাওয়াত, যার বয়স মাত্র ৫ মাস ১৫ দিন। সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৬৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে ৪টি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হাম রোগে হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। বাকিরা হামের স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।


এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে নতুন করে কারও শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। সেই সঙ্গে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মোট ৩১৮ জনের পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি , মৌলভীবাজারে ১৬টি, সুনামগঞ্জে ১৭৪টি এবং সিলেট জেলায় ১০৪টি ।


বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ২৫৯ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শয্যা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।


বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ২৫৯ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১১০টি শিশু ভর্তি আছেন শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৭৮টি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ৫৩টি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।


সিলেটের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই প্রকোপ রুখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টিও এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: