বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

টহল দলের ওপর হামলা

বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

১৪/০৬/২০২৬ ১২:৩৯:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিয়মিত টহল দলের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় চোরাকারবারির দল। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নিজেদের আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যদের ছোঁড়া গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি গুরুতর আহত হয়েছে। গত শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে বড়লেখা উপজেলার আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার সময় এই চাঞ্চল্যকর ও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে বিজিবি সদর দপ্তরের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজিবির ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) জোয়ানরা যখন বড়লেখা সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় তাদের নিয়মিত ও শিফটিং টহল পরিচালনা করছিলেন, ঠিক সে সময় ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করা দুইজন সন্দেহভাজন ভারতীয় চোরাকারবারিকে হাতেনাতে শনাক্ত করেন তারা; বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা আত্মসমর্পণ না করে উল্টো সাথে থাকা ধারালো দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে বিজিবির টহলদলের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের জীবন ও সরকারি অস্ত্র রক্ষার্থে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোঁড়েন বিজিবি সদস্যরা; এতে বিজিবির ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে সরাসরি একজন ভারতীয় চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়। পরে বিজিবির পাল্টা অ্যাকশনের মুখে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে আহত ব্যক্তিসহ অপর চোরাকারবারি রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডের গভীর অভ্যন্তরের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির ওপর হামলার চেষ্টার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা (অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে; সেই সাথে বিজিবি সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে যে, এই অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা অনুসন্ধান, বিএসএফের সাথে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম ও এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: