জল্লারপার জামে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি

জল্লারপার জামে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি

প্রথম ডেস্ক

০৪/০৬/২০২৬ ১৪:৫৮:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মহানগরীর জল্লারপার জামে মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাত ও পরিচালনা কমিটির নানা অনিয়মের প্রতিবাদে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।


স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আমীরুল হোসেন গং (ইসি নথি নং ১২৮০৫) ওয়াক্ফ এস্টেটের আওতাধীন জল্লারপার জামে মসজিদটি ২০১০ সাল থেকে পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। এই দীর্ঘ সময়ে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জল্লারপার, দাড়িয়াপাড়া, জামতলা, মির্জাজাঙ্গাল ও জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রসিদ ও মৌখিকভাবে বিপুল পরিমাণ দান-সদকা করেছেন।


এছাড়া দীর্ঘ বছর ধরে মসজিদের সামনে মাইকিং করে, প্রতি জুম্মাবার ও শবে বরাতের রাতে বিশেষ কালেকশন এবং নগরীর নামী-দামী রেস্টুরেন্ট (যেমন: পাঁচভাই, পানসী, তৎকালীন ভোজনবাড়ি) ও বিভিন্ন ভবনে রক্ষিত দানবাক্সের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে।


স্মারকলিপি প্রদানকারী মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের জানান, মসজিদ পুনর্নির্মাণের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মোতাওয়াল্লী বা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব সাধারণ মুসল্লিদের জানানো হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, এখানে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছরের জমার খতিয়ান ও খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্ত সাপেক্ষে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।


স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৮ নভেম্বর (২০২৪) সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষ থেকে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর কাছে লিখিতভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরবর্তীতে এই বিষয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ওয়াক্ফ পরিদর্শক বরাবরেও আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মসজিদ কমিটি বা মোতাওয়াল্লীর পক্ষ থেকে কোনো হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি।


মুসল্লিদের প্রধান দাবিগুলো হচ্ছে, তদন্ত ও অডিট: ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মসজিদের যাবতীয় জমা-খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রকাশ করা। কমিটির মেয়াদ ও পরিচয়: বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ এবং দায়িত্বশীলদের পরিচয় জনসম্মুখে স্পষ্ট করা। আইনগত ব্যবস্থা: তদন্তে আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


সাধারণ মুসল্লিরা এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা রক্ষায় বর্তমান জেলা প্রশাসকের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: