জুড়ীতে কৃষক কার্ডের টাকা ডিলারের পকেটে যাওয়ার অভিযোগ

তদন্ত কমিটি গঠন

জুড়ীতে কৃষক কার্ডের টাকা ডিলারের পকেটে যাওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, জুড়ী

০৪/০৬/২০২৬ ২২:৩১:২২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে কৃষি উপকরণ সরবরাহ না করে কার্ডের অর্থ নগদে লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।


অভিযুক্ত ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান। তিনি ফুলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই এবং ইউনিয়ন বিএনপির একজন সদস্য।


গত ১৪ এপ্রিল দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লকের ৬৭০ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি সহায়তা জমা হয়।


নিয়ম অনুযায়ী কৃষকরা ডিলারের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে নির্ধারিত মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও মৎস্য খাদ্য ক্রয় করতে পারেন।


গত ২৪ মে ফুলতলা ব্লকের কৃষক কার্ডধারী মমতা বুনার্জী, নিরঞ্জন রবিদাস ও শেফালী নায়েক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, কৃষি উপকরণ নিতে মিজান স্টোরে গেলে ডিলার বারবার তাদের জানান কার্ড সক্রিয় হয়নি। পরে সোনালী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের কার্ডে জমাকৃত অর্থ ইতোমধ্যে উত্তোলন বা লেনদেন করা হয়েছে।


তাদের অভিযোগ, ডিলার তাদের কার্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।


অভিযোগের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম জহুরুল হককে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি শুধু অভিযোগকারীদের বিষয়ই নয়, কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিবর্তে নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে।


এদিকে সোনালী ব্যাংকের জুড়ী শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী তিন কৃষকের কার্ডের অর্থ চারটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে ই-কমার্স পদ্ধতিতে মিজান স্টোরের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সজল কর্মকার।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার মিজানুর রহমান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিলারের পিওএস মেশিন জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: