লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ‘ভালোবাসার চিহ্ন’: ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে দুর্লভ গাছপালা
ফ্রান্সের প্যারিসের সেতুতে ‘লাভ লকস’ বা ভালোবাসার তালা ঝুলিয়ে অমরত্ব খোঁজার গল্প সবার জানা থাকলেও, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ভিন্ন ও ক্ষতিকর এক উপায়ে। উদ্যানের ভেতরে থাকা শতবর্ষী ও দুর্লভ গাছগুলোর গায়ে ধারালো ছুরি বা লোহা দিয়ে নিজেদের নাম খোদাই করে লিখছেন হাজার হাজার উন্মাদ পর্যটক। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার আশায় বা স্মৃতি ধরে রাখার এই অপচেষ্টায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বনের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। সরেজমিনে উদ্যানের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশের সারিবদ্ধ বিশাল আকৃতির প্রতিটি গাছেই শত শত প্রেমিক-প্রেমিকার নামের আদ্যক্ষর খোদাই করা। কোথাও নামের মাঝে যোগচিহ্ন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিচিত্র সব সাংকেতিক চিহ্ন, যা দূর থেকে দেখলে অনেকটা গণিতের সূত্রের মতো মনে হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যানে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদসহ মোট ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত এই বনের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতনতা জরুরি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সুনামগঞ্জ থেকে আসা সামি নামের এক পর্যটক গাছে নাম লেখার সময় জানান, অন্যদের দেখা দেখি তিনিও স্মৃতি হিসেবে নিজের ও ভালোবাসার মানুষের নামের প্রথম অক্ষর খোদাই করছেন। তবে বন বিভাগ বলছে, পর্যটকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বনের ভেতরে চিপস, চকোলেটের প্যাকেট ও প্লাস্টিক বোতল ফেলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি গাছের গায়ে নাম লেখা উদ্ভিদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, “কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের পর্যটক বনের ভেতর ঢুকে এমন কাজ করতে পারেন না। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে প্রকৃতির মাঝে এসে না বুঝেই অনেকে এই কাজ করেন।”
তিনি আরও জানান, উদ্যানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও জনবল সংকটের কারণে বনের ভেতরে কে কী করছেন, তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বন রক্ষায় পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনবল বৃদ্ধিই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: