সিসিক নির্বাচন : ১৫ নং নম্বর ওয়ার্ড থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গেল ঈদুল ফিতরের সময় নগরের দেওয়ালে দেওয়ালে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার লক্ষ্য করনা গেছে। ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই সব পোস্টারের ওয়ার্ডবাসীর সহযোগীতা কামনা করা হয়েছে। সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিআইপি ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত এই ওয়ার্ড থেকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অন্তত ৮ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেকেই পোস্টার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিলেও বাকীরা কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে।
এদিকে একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার কথাও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ফলে নির্বাচিন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দুইবারের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল আমিন বাকের,অ্যাডভোকেট কায়সার হাসান সিমন, মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদ, মিসবাহ আহমেদ,শুয়াইব আহমেদ, জামিল আহমদ, সিরাজুল ইসলাম।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সাবেক কাউন্সিল সাইফুল আমিন বাকের আমেরিকা থেকে দেশে এসেছেন। এবারও একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে অনেকেই মনে করছেন। তবে বিগত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত সিলেট ল’ কলেজের সাবেক ভিপি ও সিলেট জজ কোর্টের সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট কায়সার হাসান সিমন এবারও প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি জানান, আগের নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিলেন এবং এবার ভোটাররা তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা, ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজকর্মী মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই নেতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম ও প্রচারণার মাধ্যমে এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতার বিতরণসহ নানা উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রবাসী ব্যবসায়ী ও সরকার অনুমোদিত সামাজিক সংগঠন “পরিবর্তন”-এর চেয়ারম্যান মিসবাহ আহমেদের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি শুয়াইব আহমেদও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ফেস্টুন ও ব্যানারের মাধ্যমে তার নির্বাচনী আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এছাড়াও এলাকায় আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম লোকমুখে শোনা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ধারণা, মুরুব্বিয়ান, যুব সমাজ ও স্থানীয় ক্লাবসমূহের উদ্যোগে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং অতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণের চেষ্টা হতে পারে।
দলমত নির্বিশেষে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন, সকল প্রার্থী জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।
আলী আক্তারুজ্জামান বাবুল
মন্তব্য করুন: