ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন জগন্নাথপুরের নাঈম, ১৮ মাসের অজিহা এখন এতিম
Led Bottom Ad

১৭ লাখ টাকায় কেনা মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন জগন্নাথপুরের নাঈম, ১৮ মাসের অজিহা এখন এতিম

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৯/০৩/২০২৬ ১৮:২২:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ১৭ লাখ টাকা খরচ করে ইউরোপ পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের অতল গহ্বরে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (মাঝপাড়া) গ্রামের তরুণ নাঈম মিয়া (২৫)। গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে দালালের পৈশাচিক নির্যাতন আর দীর্ঘদিনের অনাহারে নিস্তেজ হয়ে পড়া নাঈমের মৃত্যু হয়। নিথর দেহটি দাললেরা মাঝপথেই উত্তাল সাগরে ফেলে দেয়ায় শেষবারের মতো ছেলেকে দেখার সুযোগটুকুও হারালো তার পরিবার। নাঈম জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর বাজারের একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন ফুটবলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজের খপ্পরে পড়ে ধাপে ধাপে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে তিনি ঘর ছাড়েন, কিন্তু লিবিয়া পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন।

মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে ২০ মার্চ স্ত্রী আয়েশা বেগমকে পাঠানো এক হৃদয়বিদারক ভয়েস মেসেজে নাঈম তার ওপর চলা পৈশাচিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছিলেন; তিনি জানিয়েছিলেন যে তাদের কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছে না, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আর সামান্য রুটি খেয়ে তারা কোনোমতে বেঁচে আছেন।

একই নৌকায় থাকা এবং বর্তমানে গ্রিস পৌঁছানো প্রত্যক্ষদর্শী তোফায়েল নিশ্চিত করেছেন যে, দীর্ঘ এক মাসের অনাহার আর বেধড়ক পিটুনি সইতে না পেরে নৌকায় ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাঈম মারা যান।

নাঈমের মৃত্যুতে তার বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে; মা আঁখি বেগম ও বাবা দোলন মিয়ার আহাজারিতে গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ১৮ মাস বয়সী শিশু কন্যা অজিহা এখনো জানে না যে তার মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া চিরতরে সরে গেছে।

বাবা দোলন মিয়ার অভিযোগ, দালালের মরণনেশা আজ তার সাজানো পরিবারটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তিনি এই দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad