সুনামগঞ্জে ব্রিজ ভেঙে চরম ভোগান্তিতে ৩ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও এলাকায় ৭০ বছরের পুরনো একটি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান আমলে নির্মিত এই প্রাচীন ব্রিজটি গত রমজান মাসে সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে যাতায়াত খরচ ও সময় দুই-ই বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শাহরুখ মিয়া ও সুহেল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা জনপ্রতিনিধিরা স্থায়ী কোনো সমাধান করেননি, যার ফলে এখন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ জনস্বার্থে দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভেঙে যাওয়া ব্রিজের স্থানে মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে স্ল্যাব পার্ট ব্যবহার করে বেইলি ব্রিজের আদলে একটি অস্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: