সাড়ে ১২ লাখ টাকা খরচ করেও ফিরল না ছেলে, ভূমধ্যসাগরেই সলিল সমাধি জগন্নাথপুরের শায়েখের
পরিবারের অভাব দূর করে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দালালের হাত ধরে ইউরোপ পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের তরুণ শায়েখ আহমদ জয়। মাত্র চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়া শায়েখের এই মৃত্যু সংবাদে তাঁর পরিবারে এখন চলছে চরম আহাজারি। বাবা আখলুস মিয়া ছেলের আবদার মেটাতে এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে কয়েক ধাপে জমি, গরু বিক্রি এবং সুদে টাকা এনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিনিয়োগ আজ তাঁর সাজানো সংসারকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। শায়েখ সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন এবং সেখান থেকে অবৈধ সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে দালালের হাতে বন্দী হয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হন।
নিখোঁজ হওয়ার আগে গত ২০ মার্চ পরিবারের সাথে শেষ কথোপকথনে শায়েখ অত্যন্ত করুণ কণ্ঠে তাঁর ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের কথা জানিয়েছিলেন। খাবার ও পানির তীব্র সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন যে, ২৩ তারিখের মধ্যে যদি 'গেইম' (অবৈধ যাত্রা) না হয়, তবে যেন তাঁকে যেভাবেই হোক দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ সম্বল বিক্রি করে সাড়ে সাত লাখ টাকা পাঠানোর পরও শেষ রক্ষা হয়নি; শনিবার বিকেলে তাঁর সাথে থাকা সহযাত্রীরা ফোনে জানিয়েছেন যে শায়েখ মারা গেছেন এবং তাঁর মরদেহটি পাষণ্ড দালালরা ভূমধ্যসাগরেই ফেলে দিয়েছে। ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতির খবর শুনে বাবা আখলুস মিয়া এখন বাকরুদ্ধ এবং চাচা আঙ্গুর মিয়াসহ পুরো গ্রামবাসী এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: