সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে জলাবদ্ধতা: প্রতি বছর ৫শ একর জমি পানির নীচে
সুনামগঞ্জের সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা জুড়ে অবস্থিত বিশাল দেখার হাওর প্রতি বছর বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জলাবদ্ধতার শিকার হয়। হাওরের আবাদকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ৯২৬১ হেক্টর, যেখানে ছোট ছোট হাওরের অন্তত ৫শ একর জমি প্রতি বছর পানির নীচে তলিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ইছাগরি, হরিপুর, কলাউরা, রৌয়ারপাড়, দরিয়াবাজ ও আব্দুল্লাহপুর গ্রামে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেন। তবে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২৪ সালে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করলে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেন। তখনকার কৃষি মন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ একটি স্লুইস গেট নির্মাণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কাজ শুরু হলেও এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এবারও বৃষ্টির পানি হাওরে জমে অন্তত ৫শ একর জমি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রেদওয়ান আলী জানান, পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের পাশে মহাশিং নদীর উথারিয়া বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনটি পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হলেও দুটি পাইপ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসী দাবি করেছেন, দ্রুত ঐ দুটি পাইপ খোলা এবং একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও বরাদ্দ না থাকায় কাজ এগোতে পারেনি।
সুনামগঞ্জ সদর ইউএনও সুলতানা জেরিন বলেন, বিষয়টি জানলে শান্তিগঞ্জ ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ফোনে বক্তব্য না দেওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লতিফুর রহমান রাজু
মন্তব্য করুন: