সুনামগঞ্জে আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধানের কর্তন শুরু
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধানের কর্তন শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১০/০৪/২০২৬ ১৩:০২:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধান চাষ করে সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। গত চার বছর ধরে এই জাতের ধান চাষে লাভবান হওয়ার পর এবারও আগেভাগেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে খরচার হাওরের একাংশে ধান কাটার উৎসবের মধ্য দিয়ে এই মৌসুমের সূচনা হয়। চাল চিকন ও সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে ব্রি-৯৬ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

হাওরসংলগ্ন মুক্তিয়ারকলা গ্রামের কৃষক মারফত আলী জানান, তিনি এবার ১০ কেয়ার জমিতে ব্রি-৯৬ আবাদ করেছেন। আগাম ধান কাটতে পারায় পাহাড়ি ঢল বা অকাল বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে। তিনি আশা করছেন, প্রতি কেয়ারে ১৮ মণ করে ফলন পাবেন। কেবল খরচার হাওরই নয়, জেলার জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, শান্তিগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরেও এই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। মল্লিকপুর এলাকার কৃষক রফিকুনন্নেছাসহ অন্যান্য কৃষকরা কালবৈশাখীর শঙ্কা মাথায় নিয়ে সানন্দে ধান ঘরে তুলছেন। আগাম ধান বাজারে তুললে দাম ভালো পাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ও মাড়াইয়ের খরচ নিয়েও দুশ্চিন্তা কম থাকে বলে জানান তাঁরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, ইতোমধ্যে আগাম জাতের বিভিন্ন ধানসহ প্রায় ১১৪ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় কোথাও কোথাও কম পাকা ধানও কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

শাল্লার ইউপি চেয়ারম্যান ও বড় কৃষক ছত্তার মিয়ার মতে, জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফলন ভালো হওয়ায় এবং আগাম ধান ঘরে তুলতে পারায় স্বস্তিতে রয়েছেন হাওরপারের সাধারণ কৃষকরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad