সিলেটে সুরমা পাড়ে নাচে-গানে নতুন বছরকে বরণ
সিলেটের ঐতিহাসিক সুরমা নদীর পাড়ে নাচে, গানে আর বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনে ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩-কে স্বাগত জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটায় নগরীর চাঁদনি ঘাট এলাকায় এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট।
সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরোর সভাপতিত্বে ও বর্ণা ব্যানার্জির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাওয়ার আগে’ গানের সঙ্গে ছন্দ নৃত্যালয়ের শিল্পীদের অনবদ্য নৃত্যের মাধ্যমে। বর্ষবিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নদীর পাড়ে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সাংস্কৃতিক পর্বে পাঠশালা, সুবর্ণ যাত্রা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, কথাকলি সিলেট, ছন্দ নৃত্যালয়, গ্রিন ডিজেবল ফাউন্ডেশন, নাট্যমঞ্চ সিলেট এবং সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যালয়ের শিল্পীরা অংশ নেন। ছোটমণি শিল্পীদের আবৃত্তি, বাংলা ছায়াছবির হারানো দিনের গান, ঐতিহ্যবাহী পুঁথিপাঠ এবং মনোমুগ্ধকর সব নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সুবর্ণ যাত্রার শিল্পীদের ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরের মূর্ছনায় প্রদীপ প্রজ্বলন করে নতুন বছরের আগমনী বার্তা ঘোষণা করা হয়।
আয়োজন সম্পর্কে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো জানান, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা ও দেশীয় সংস্কৃতিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই ঐতিহাসিক স্থানে বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চৈত্রের শেষ দিনে এই ঐতিহ্যবাহী চর্চা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: