বিলীনের পথে বিস্তীর্ণ এলাকা
গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব
সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা এবং নদীতে প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসবে চরম হুমকির মুখে পড়েছে শত শত বিঘা ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং চা বাগানের খেলার মাঠ। জাফলংয়ের প্রতাপপুর থেকে শুরু করে জৈন্তাপুরের লালাখাল ও বড়গাঙ নদীতে দিন-রাত ড্রেজার ও পেলোডার মেশিন দিয়ে চালানো এই ধ্বংসযজ্ঞে স্থানীয় প্রকৃতি ও জনপদ আজ বিপন্ন।
অভিযোগ রয়েছে, গোয়াইনঘাটের প্রতাপপুর এলাকায় খায়রুল আমিন ও কামরুল ইসলামসহ অন্তত ৫০ জনের একটি সিন্ডিকেট পিয়াইন নদীর তীরে বড় বড় গর্ত করে প্রতিদিন লক্ষাধিক ঘনফুট বালু লুট করছে। এতে জাফলং চা বাগানের তিনটি ফুটবল মাঠসহ সাধারণ মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই চক্রটি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
একইভাবে জৈন্তাপুরের বড়গাঙ নদীতে ৪ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া হলেও শর্ত লঙ্ঘন করে নদীর পাড় থেকে মাত্র ১৫ মিটারের মধ্যে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও স্থানীয় কবরস্থান ভাঙনের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে লালাখাল নদীর ইজারা বন্ধ থাকলেও প্রভাবশালীরা কৌশলে বালু চুরি অব্যাহত রেখেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এবং জৈন্তাপুরের ইউএনও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, বালু খেকোদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, আইনি ফাঁকফোকরে প্রভাবশালীরা পার পেয়ে যাওয়ায় স্থায়ী সমাধান মিলছে না। পর্যটন এলাকা জাফলং ও লালাখালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখন স্থায়ী টাস্কফোর্স বা বিশেষ সামরিক অভিযানের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: