দিশেহারা কৃষক ও হারভেস্টার মালিকরা
হাওরে ধান কাটার ভরা মৌসুমে জ্বালানি সংকট
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে বোরো ধান কাটার ধুম পড়লেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হারভেস্টার মেশিনের কার্যক্রম। পাম্পগুলোতে ডিজেল বিক্রিতে প্রশাসনের কঠোর 'রেশনিং' এবং প্রত্যয়নপত্রের জটিলতায় পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না হারভেস্টার মালিকরা। এতে একদিকে যেমন মেশিনের অভাবে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আব্দুল্লাহ মিয়ার মতো হাজারো কৃষক, অন্যদিকে তেলের অভাবে অলস বসে আছে কোটি টাকা মূল্যের ধান কাটার যন্ত্র।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুরের কৃষক আব্দুল্লাহ মিয়া জানান, ৩০ একর জমির ধানের মধ্যে মাত্র দুই দিনে অনেক কষ্টে লোকবল জোগাড় করে সামান্য কিছু কাটতে পেরেছেন; বাকি ধান নিয়ে তিনি এখন চরম উদ্বেগে।
হারভেস্টার মালিক আব্দুল হক জানান, এক দিনেই তিনি তিন পাম্প ঘুরে মাত্র ২০০ লিটার তেলের স্লিপ পেলেও পাম্প থেকে ১০০ লিটারের বেশি দেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ২১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে তাহিরপুর ও দিরাইয়ের হাওরগুলোতেও। তাহিরপুরের বড়দল গ্রামের হারভেস্টার মালিক জামাল উদ্দিনের দুটি মেশিনের মধ্যে একটি তেলের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ। খোলা বাজারে ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০-১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রফিক উদ্দিনসহ অন্য মালিকরা। দিরাইয়ের কৃষক রেনু মিয়া জানান, মাধবপুর থেকে ভাড়ায় আনা মেশিনটিও তেলের অভাবে চালানো যাচ্ছে না।
কৃষকদের দাবি, উপজেলা অফিসে গিয়ে স্লিপ নেওয়ার জটিলতা কমিয়ে পাম্পেই কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক। মাটিয়ান হাওরের কৃষক মাফি আলম ও হাকিম উদ্দিনের মতে, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে মেশিনের অভাব—সব মিলিয়ে ধান কাটার খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি প্রকৌশলী তাপস কুমার তালুকদারের তথ্যমতে, জেলায় ৬০২টি হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন সচল থাকলেও জ্বালানি সংকটে এগুলোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক তেলের ‘সংকট’ নেই দাবি করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র ছাড়া তেল দেওয়া সম্ভব নয়।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে, যার বড় অংশই এখন কাটার অপেক্ষায়। দ্রুত জ্বালানি সমস্যার সমাধান না হলে বৃষ্টির আশঙ্কায় থাকা হাওরের কৃষকদের ধান ঘরে তোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: