ফসল রক্ষায় লড়ছে কৃষক পরিবার
অতিবৃষ্টি ও ত্রিমুখী সংকটে বিপন্ন হাওরের বোরো ধান
টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নিচু এলাকার হাওরগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বোরো ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। ফসল হারানোর আতঙ্ক, তীব্র শ্রমিক সংকট এবং জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা—এই ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে দুর্গম শাল্লা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন নিচু জমির ধান এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে। পানি থৈ থৈ করায় আধুনিক হারভেস্টার মেশিন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা কয়েকগুণ বেশি খরচে হাতে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক নারায়ণ দাসের মতে, প্রতিকূল প্রকৃতির কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার পরও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না, যা ফসল ঘরে তোলাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, নিচু এলাকায় ধান কাটায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকট মেটাতে প্রশাসন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। এই সংকট কাটাতে তাহিরপুরের কৃষক আব্দুল্লাহ পরামর্শ দিয়েছেন যে, আগামী ১০-১৫ দিনের জন্য বালু-পাথর উত্তোলন ও শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ রাখলে সেখানকার শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে লাগানো সম্ভব হতো।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৫২১ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট বিশাল অংশের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে এলাকায় গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংকটের এই মুহূর্তে হাওরপাড়ে দেখা গেছে মানবিক এক লড়াই—ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে ঘাম ঝরাচ্ছেন নারী ও শিশুরাও।
কৃষকদের দাবি, প্রশাসন যদি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং শ্রমিক সংকট সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়, তবেই প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মাঝেও সোনার ধান গোলায় তোলা সম্ভব হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: