বিদেশের বাজারেও বাড়ছে চাহিদা
মৌলভীবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বাঁশের ফার্নিচার
মৌলভীবাজারে কাঠের বিকল্প হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব বাঁশের ফার্নিচার। জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের আমির হোসেন সিরাজের হাত ধরে এই ব্যতিক্রমী কুটির শিল্প এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর আগে সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করা সিরাজের এই কারখানায় এখন তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজাইনের সোফাসেট, খাট, ডাইনিং টেবিল থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা শৌখিন আসবাবপত্র। শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে তাঁর তৈরি এই ফার্নিচার এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। জেলাটি পর্যটন এলাকা হওয়ায় স্থানীয় রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ মালিকরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। বিদেশি পর্যটকরাও শৌখিন সামগ্রী হিসেবে এসব আসবাবপত্র পছন্দ করে নিয়ে যাচ্ছেন।
কারিগরদের মতে, বাঁশকে প্রথমে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে শুকিয়ে এবং বিশেষ মেডিসিন ব্যবহার করে টেকসই করা হয়, যাতে পোকায় না ধরে। একটি বড় ফার্নিচার তৈরি করতে সময় লাগে তিন থেকে চার সপ্তাহ। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, কাঠের তুলনায় বাঁশের ফার্নিচার যেমন টেকসই, তেমনি দামেও সাশ্রয়ী। আমির হোসেন সিরাজ জানান, বিদেশি মেডিসিন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাঁর তৈরি পণ্য এখন দীর্ঘস্থায়ী ও গুণগত মানসম্পন্ন। তবে এই শিল্পকে আরও বড় করতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজন। শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ জানিয়েছেন, সিরাজের ঋণের আবেদনটি বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই কুটির শিল্পটি জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: